ঢাকা ০৫:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

শহরের সুবিধা পৌছে যাচ্ছে গ্রামেও

কয়রায় উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে গেছে গ্রামীণ জনপদ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১২:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • / ৭৩৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

// শাহজাহান সিরাজ, কয়রা //

“শেখ হাসিনার দর্শন বাংলাদেশের উন্নয়ন” এ শ্লোগানে সারা দেশের প্রতিটি জনপদকে উন্নয়ন ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন গ্রাম হবে শহর। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে রুপ দিতে গ্রামীণ জনপদের চিত্র উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে। এরই আালোকে খুলনার উপকূলীয় অঞ্চল কয়রা উপজেলার গ্রামীণ জনপদেও বইছে সরকারের নানা উন্নয়ন কর্মকান্ডের ছোঁয়া। সেই সাথে পরিবর্তন হতে চলেছে উপজেলার সাধারণ মানুষের জীবনমানসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন। এ উপজেলায় বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। অবিশ^াস্য উন্নয়নে বদলে যাচ্ছে ১৭৭৫.৪১ বর্গ কিলোমিটার আয়তন নিয়ে বাংলাদেশের ২য় বৃহত্তম উপজেলা ৭ টি ইউনিয়নের ৬৩ টি ওয়ার্ড ৭২ টি মৌজা এবং ১৩১ টি গ্রাম ১৯২৫৩৪ জন লোকসংখ্যা নিয়ে এ উপজেলা। গ্রামীণ কাঠামো উন্নয়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী বিভাগ(এলজিইডি) এ উপজেলায় ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে।

এক সময় জামায়াত বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে এ উপজেলার পরিচিতি থাকলেও দেখা মেলেনি কাঙ্খিত উন্নয়নের। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসায় দৃশ্যপট পাল্টে যেতে শুরু করেছে। রাস্তাঘাট, স্কুল, কলেজ, ব্রিজ,কালভার্ট, বিদ্যুতায়নসহ একের পর এক নানামুখি উন্নয়নমূলক কাজের বদৌলতে বদলে যেতে থাকে এ উপজেলার চেহারা। তবে এ সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় অব্যাহত থাকলেও এসব কিছুর গতি বৃদ্ধি পেয়েছে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ মোঃ আকতারুজ্জমান বাবুর কল্যানে। তিনি সংসদ সদস্য হয়ে দায়িত্ব গ্রহন করার পর থেকে উন্নয়নে বদলে যেতে থাকে শহরসহ গ্রাম পর্যায়।

আকতারুজ্জামান বাবু খুলনা-৬, কয়রা পাইকগাছার সংসদ সদস্য। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় ১১৭৬ কোটি টাকার টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মানের কাজ চলমান, জাইকার অর্থায়নে ৩২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মানের লক্ষ্যে উত্তর বেদকাশি এর বাঁধ, বাইনতলা সুইচগেট এর বøক দ্বারা বাঁধ নির্মাণ কাজ এর টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে ওয়াপদা কতৃক ঠিকাদারকে কার্যাদেশ প্রদান। উপজেলায় কৃষকদের পানি সরবরাহের সুবিধার জন্য প্রায় ১০ টি খাল খনন করা হয়েছে।

উপজেলা এলজিডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ বছরে ৮৮ কোটি ৩১ লক্ষ ৪২ হাজার টাকা ব্যয়ে গ্রামীন উন্নয়ন করা হয়।এর মধ্যে ৩১ কোটি ৩৯ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা ব্যয়ে ২৭ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ করা হয়। ৫৩ কোটি ৫৭ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ১২২.৬৬৫ কিলোমিটার দৈর্ঘে ৩৭ টি গ্রামীন সড়ক নির্মাণ করা হয়।১ কোটি ২৭ লক্ষ ৬৩ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি ভূমি অফিস নির্মাণ করা হয়। ১ কোটি ৪০ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাচীর নির্মাণ করা হয়। ৬৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে ২ টি হাট উন্নয়ন করা হয়।

শিক্ষাক্ষেত্রে উপজেলায় ৬০ কোটি ব্যয়ে টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার একনেকে অনুমোদন ও জমি গ্রহনের কাজ চলমান। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বহনকারি মুর‌্যাল ও ট্যারাকোটা নির্মান করা হয়েছে। ১০ টি প্রতিষ্ঠানে ১০ টি শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যখাতে কয়রা হাসপাতালে ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন ভবনের কাজ চলমান। হাসপাতালে ১ টি ভারত সরকারের উপহারের ১ টি এ্যাম্বুলেন্স প্রদানের সাথে উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার জন্য ২ টি গাড়ি প্রদান করা হয়েছে।

তাছাড়া জনসাধারণের পানযোগ্য সুপেয় পানির জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেয়া হয়েছে ৬৮০ টি গভীর নলকূপ, ৩০০০ লিটারের জলাধার ৬০০০ টি, পাবলিক টয়লেট ৭ টি আরও ৫টি পিএসএফ ১০ টি, সোলার ডিস্যালাইশন ১৬ টি । স্থানীয় সরকারের নির্বাহী অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেয়া হয়েছে ভূমিহীনদের জন্য জমিসহ ঘর।

সরেজমিন ঘুরে একাধিক গ্রামে দেখা গেছে, রাস্তাঘাট খুব একটা কাঁচা নেই। সব গ্রামেই পেীছে গেছে শতভাগ বিদ্যুৎ। বেশিরভাগ পাকা বাড়ী। বাড়ির পাশে রয়েছে ক্লিনিক। বাচ্চাদের জন্য রয়েছে উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা।
উপজেলা এলজিডি উপসহকারি প্রকৌশলী মোঃ আফজাল হোসেন জানান, এলজিডিরি অধীনে এ উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়ন কাজ চলছে। এ উপজেলায় গত ৫ বছরে ৮৮ কোটি ৭১ লক্ষ ৪২ হাজার টাকা ব্যয়ে রাস্তা, কালভার্ট, বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বর্তমানে ২০ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে যা আগামী ২ মাসের মধ্যে ্ওইসব কাজ শেষ হতে চেষ্টা করা হচ্ছে।

বা/খ/রা

নিউজটি শেয়ার করুন

শহরের সুবিধা পৌছে যাচ্ছে গ্রামেও

কয়রায় উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে গেছে গ্রামীণ জনপদ

আপডেট সময় : ০৬:১২:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩

// শাহজাহান সিরাজ, কয়রা //

“শেখ হাসিনার দর্শন বাংলাদেশের উন্নয়ন” এ শ্লোগানে সারা দেশের প্রতিটি জনপদকে উন্নয়ন ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন গ্রাম হবে শহর। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে রুপ দিতে গ্রামীণ জনপদের চিত্র উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে। এরই আালোকে খুলনার উপকূলীয় অঞ্চল কয়রা উপজেলার গ্রামীণ জনপদেও বইছে সরকারের নানা উন্নয়ন কর্মকান্ডের ছোঁয়া। সেই সাথে পরিবর্তন হতে চলেছে উপজেলার সাধারণ মানুষের জীবনমানসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন। এ উপজেলায় বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। অবিশ^াস্য উন্নয়নে বদলে যাচ্ছে ১৭৭৫.৪১ বর্গ কিলোমিটার আয়তন নিয়ে বাংলাদেশের ২য় বৃহত্তম উপজেলা ৭ টি ইউনিয়নের ৬৩ টি ওয়ার্ড ৭২ টি মৌজা এবং ১৩১ টি গ্রাম ১৯২৫৩৪ জন লোকসংখ্যা নিয়ে এ উপজেলা। গ্রামীণ কাঠামো উন্নয়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী বিভাগ(এলজিইডি) এ উপজেলায় ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে।

এক সময় জামায়াত বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে এ উপজেলার পরিচিতি থাকলেও দেখা মেলেনি কাঙ্খিত উন্নয়নের। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসায় দৃশ্যপট পাল্টে যেতে শুরু করেছে। রাস্তাঘাট, স্কুল, কলেজ, ব্রিজ,কালভার্ট, বিদ্যুতায়নসহ একের পর এক নানামুখি উন্নয়নমূলক কাজের বদৌলতে বদলে যেতে থাকে এ উপজেলার চেহারা। তবে এ সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় অব্যাহত থাকলেও এসব কিছুর গতি বৃদ্ধি পেয়েছে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ মোঃ আকতারুজ্জমান বাবুর কল্যানে। তিনি সংসদ সদস্য হয়ে দায়িত্ব গ্রহন করার পর থেকে উন্নয়নে বদলে যেতে থাকে শহরসহ গ্রাম পর্যায়।

আকতারুজ্জামান বাবু খুলনা-৬, কয়রা পাইকগাছার সংসদ সদস্য। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় ১১৭৬ কোটি টাকার টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মানের কাজ চলমান, জাইকার অর্থায়নে ৩২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মানের লক্ষ্যে উত্তর বেদকাশি এর বাঁধ, বাইনতলা সুইচগেট এর বøক দ্বারা বাঁধ নির্মাণ কাজ এর টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে ওয়াপদা কতৃক ঠিকাদারকে কার্যাদেশ প্রদান। উপজেলায় কৃষকদের পানি সরবরাহের সুবিধার জন্য প্রায় ১০ টি খাল খনন করা হয়েছে।

উপজেলা এলজিডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ বছরে ৮৮ কোটি ৩১ লক্ষ ৪২ হাজার টাকা ব্যয়ে গ্রামীন উন্নয়ন করা হয়।এর মধ্যে ৩১ কোটি ৩৯ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা ব্যয়ে ২৭ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ করা হয়। ৫৩ কোটি ৫৭ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ১২২.৬৬৫ কিলোমিটার দৈর্ঘে ৩৭ টি গ্রামীন সড়ক নির্মাণ করা হয়।১ কোটি ২৭ লক্ষ ৬৩ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি ভূমি অফিস নির্মাণ করা হয়। ১ কোটি ৪০ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাচীর নির্মাণ করা হয়। ৬৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে ২ টি হাট উন্নয়ন করা হয়।

শিক্ষাক্ষেত্রে উপজেলায় ৬০ কোটি ব্যয়ে টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার একনেকে অনুমোদন ও জমি গ্রহনের কাজ চলমান। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বহনকারি মুর‌্যাল ও ট্যারাকোটা নির্মান করা হয়েছে। ১০ টি প্রতিষ্ঠানে ১০ টি শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যখাতে কয়রা হাসপাতালে ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন ভবনের কাজ চলমান। হাসপাতালে ১ টি ভারত সরকারের উপহারের ১ টি এ্যাম্বুলেন্স প্রদানের সাথে উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার জন্য ২ টি গাড়ি প্রদান করা হয়েছে।

তাছাড়া জনসাধারণের পানযোগ্য সুপেয় পানির জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেয়া হয়েছে ৬৮০ টি গভীর নলকূপ, ৩০০০ লিটারের জলাধার ৬০০০ টি, পাবলিক টয়লেট ৭ টি আরও ৫টি পিএসএফ ১০ টি, সোলার ডিস্যালাইশন ১৬ টি । স্থানীয় সরকারের নির্বাহী অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেয়া হয়েছে ভূমিহীনদের জন্য জমিসহ ঘর।

সরেজমিন ঘুরে একাধিক গ্রামে দেখা গেছে, রাস্তাঘাট খুব একটা কাঁচা নেই। সব গ্রামেই পেীছে গেছে শতভাগ বিদ্যুৎ। বেশিরভাগ পাকা বাড়ী। বাড়ির পাশে রয়েছে ক্লিনিক। বাচ্চাদের জন্য রয়েছে উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা।
উপজেলা এলজিডি উপসহকারি প্রকৌশলী মোঃ আফজাল হোসেন জানান, এলজিডিরি অধীনে এ উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়ন কাজ চলছে। এ উপজেলায় গত ৫ বছরে ৮৮ কোটি ৭১ লক্ষ ৪২ হাজার টাকা ব্যয়ে রাস্তা, কালভার্ট, বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বর্তমানে ২০ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে যা আগামী ২ মাসের মধ্যে ্ওইসব কাজ শেষ হতে চেষ্টা করা হচ্ছে।

বা/খ/রা