ঢাকা ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

কটিয়াদীতে বেকারত্ব কমিয়েছে অটোরিকশা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩২:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৩
  • / ৪৫৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রতিনিধি, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ ) প্রতিনিধি :

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌর সদর, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে বেড়েছে বেকারের সংখ্যা। এরই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সমাজে নানা ধরনের অস্থিরতা। বেড়েছে চুরি-ছিনতাইয়ের মতো অপরাধও। বিশেষ করে গ্রামগঞ্জের যেসব যুবকরা শহরের বিভিন্ন গার্মেন্টসে চাকরি করতেন তাদের অধিকাংশই করোনা সংকটে চাকরি হারিয়ে বেকার হয়ে বসে আছেন। হঠাৎ বেকার হয়ে পড়া যুবকদের বেকারত্ব অনেক কমিয়েছে অটোরিকশা।

সম্প্রতি কটিয়াদীতে ব্যাপক হারে বেড়েছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। গ্রামের বেকার যুবকরা বর্তমানে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। করোনায় যারা চাকরি হারিয়েছেন তাদের একটি অংশ অটোরিকশা চালিয়ে বর্তমানে সাবলম্বী হচ্ছেন। এতে যেমন বেকারত্বের সংখ্যা কমছে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বাড়ছে।
বেসরকারি হিসাবে উপজেলায় চার থেকে পাঁচ হাজার অটোরিকশা রয়েছে। যার মধ্যে বিভাটেকের সংখ্যাও কম নয়। অধিকাংশ চালকই ২০ থেকে ৩০ বছরের যুবক। তারা জীবিকা নির্বাহে লড়াই করে যাচ্ছেন।

চালকদের একটি সূত্র বলছে, যাদের অটোরিকশা আছে তাদের অধিকাংশই এনজিও অথবা কিস্তির মাধ্যমে গাড়িগুলো নেন। আবার কেউ কেউ নগদ অর্থ দিয়ে অটোরিকশা ক্রয় করেন। এমন সংখ্যা খুব কম। চালকরা মনে করেন, অটোরিকশা চালিয়ে তাদের জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে। কেননা করোনা সংকটে অনেকেই বিপর্যস্ত। তাই অটোরিকশার মাধ্যমে অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন অনেক যুবক। বিশেষ করে স্থানীয় এনজিও, ব্যাংকের ভূমিকাও কম নয় বলে বলে জানিয়েছে চালকরা।

মসূয়া গ্রামের যুবক ইমরান হুসাইন (২৮)। তিনি দীর্ঘদিন ঢাকায় একটি কোম্পানিতে চাকরি করেছেন। কিন্তু করোনার কারণে তার চাকরি চলে যায়। ইমরান জানান, ‘চাকরিটি ছেড়ে দেওয়ার পর কয়েক মাস বেকার ছিলাম। বাড়িতে কোনো কাজ ছিল না। তারপর কিস্তির মাধ্যমে অটোরিকশা নিয়ে জীবিকা নির্বাহ শুরু করি। এরপর থেকে বদলাতে শুরু করে দৈনন্দিন জীবন। আমি বর্তমানে একজন সফল যুবক।’

করগাঁও গ্রামের আতাউল্লাহ মিয়া (২৩)। তিনিও দীর্ঘদিন এলাকায় কোনো কাজ না পেয়ে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে একটি অটোরিকশা ক্রয় করেন। তিনি জানান, ‘বর্তমানে আমার দৈনিক আয় ৮০০-১০০০ টাকা। ইতোমধ্যে আমার কিস্তি প্রায় শেষের পথে। প্রতিদিন আমার যে টাকা আয় হয়, তাতে আমার পরিবারকে সহযোগিতা করতে পারি।’

কটিয়াদী মডেল থানার ওসি এস.এম. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘এ উপজেলায় দিন দিন অটোরিকশার সংখ্যা বাড়ছে। পাশাপাশি বেকারত্বের সংখ্যাও দিন দিন কমছে। ফলে গ্রামে চুরি-ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা কমে গেছে। তবে অটোরিকশার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় যানজট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই এদেরকে একটি লাইসেন্সের আওতায় আনতে পারলে একদিকে যেমন সড়ক দুর্ঘটনা রোধ হবে, অন্যদিকে সরকারও রাজস্ব পাবে।’

বা/খ: জই

নিউজটি শেয়ার করুন

কটিয়াদীতে বেকারত্ব কমিয়েছে অটোরিকশা

আপডেট সময় : ০৩:৩২:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৩

প্রতিনিধি, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ ) প্রতিনিধি :

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌর সদর, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে বেড়েছে বেকারের সংখ্যা। এরই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সমাজে নানা ধরনের অস্থিরতা। বেড়েছে চুরি-ছিনতাইয়ের মতো অপরাধও। বিশেষ করে গ্রামগঞ্জের যেসব যুবকরা শহরের বিভিন্ন গার্মেন্টসে চাকরি করতেন তাদের অধিকাংশই করোনা সংকটে চাকরি হারিয়ে বেকার হয়ে বসে আছেন। হঠাৎ বেকার হয়ে পড়া যুবকদের বেকারত্ব অনেক কমিয়েছে অটোরিকশা।

সম্প্রতি কটিয়াদীতে ব্যাপক হারে বেড়েছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। গ্রামের বেকার যুবকরা বর্তমানে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। করোনায় যারা চাকরি হারিয়েছেন তাদের একটি অংশ অটোরিকশা চালিয়ে বর্তমানে সাবলম্বী হচ্ছেন। এতে যেমন বেকারত্বের সংখ্যা কমছে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বাড়ছে।
বেসরকারি হিসাবে উপজেলায় চার থেকে পাঁচ হাজার অটোরিকশা রয়েছে। যার মধ্যে বিভাটেকের সংখ্যাও কম নয়। অধিকাংশ চালকই ২০ থেকে ৩০ বছরের যুবক। তারা জীবিকা নির্বাহে লড়াই করে যাচ্ছেন।

চালকদের একটি সূত্র বলছে, যাদের অটোরিকশা আছে তাদের অধিকাংশই এনজিও অথবা কিস্তির মাধ্যমে গাড়িগুলো নেন। আবার কেউ কেউ নগদ অর্থ দিয়ে অটোরিকশা ক্রয় করেন। এমন সংখ্যা খুব কম। চালকরা মনে করেন, অটোরিকশা চালিয়ে তাদের জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে। কেননা করোনা সংকটে অনেকেই বিপর্যস্ত। তাই অটোরিকশার মাধ্যমে অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন অনেক যুবক। বিশেষ করে স্থানীয় এনজিও, ব্যাংকের ভূমিকাও কম নয় বলে বলে জানিয়েছে চালকরা।

মসূয়া গ্রামের যুবক ইমরান হুসাইন (২৮)। তিনি দীর্ঘদিন ঢাকায় একটি কোম্পানিতে চাকরি করেছেন। কিন্তু করোনার কারণে তার চাকরি চলে যায়। ইমরান জানান, ‘চাকরিটি ছেড়ে দেওয়ার পর কয়েক মাস বেকার ছিলাম। বাড়িতে কোনো কাজ ছিল না। তারপর কিস্তির মাধ্যমে অটোরিকশা নিয়ে জীবিকা নির্বাহ শুরু করি। এরপর থেকে বদলাতে শুরু করে দৈনন্দিন জীবন। আমি বর্তমানে একজন সফল যুবক।’

করগাঁও গ্রামের আতাউল্লাহ মিয়া (২৩)। তিনিও দীর্ঘদিন এলাকায় কোনো কাজ না পেয়ে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে একটি অটোরিকশা ক্রয় করেন। তিনি জানান, ‘বর্তমানে আমার দৈনিক আয় ৮০০-১০০০ টাকা। ইতোমধ্যে আমার কিস্তি প্রায় শেষের পথে। প্রতিদিন আমার যে টাকা আয় হয়, তাতে আমার পরিবারকে সহযোগিতা করতে পারি।’

কটিয়াদী মডেল থানার ওসি এস.এম. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘এ উপজেলায় দিন দিন অটোরিকশার সংখ্যা বাড়ছে। পাশাপাশি বেকারত্বের সংখ্যাও দিন দিন কমছে। ফলে গ্রামে চুরি-ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা কমে গেছে। তবে অটোরিকশার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় যানজট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই এদেরকে একটি লাইসেন্সের আওতায় আনতে পারলে একদিকে যেমন সড়ক দুর্ঘটনা রোধ হবে, অন্যদিকে সরকারও রাজস্ব পাবে।’

বা/খ: জই