ঢাকা ০৬:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

ওরা বাহুবলী ২২ জন!

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১১:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর ২০২২
  • / ৪৯৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ডন, সীমান্ত, কমল, তুফান, স্বাধীন, জয়দেব, সুজিত, সুশান্ত, জয়, গনেশ, কার্তিক, বাশু, কার্তিক (বড়), সুদেব, প্রদীপ, শুভ, রাহুল, গোপাল, সুনীল, নিখিল, হৃদয়, বিশা- ওরা বাহুবলী ২২ জন! সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর পৌর এলাকার আদিবাসী পরিবারের সন্তান ওরা। অতীতে ওদের পূর্বপুরুষেরা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বিভিন্ন স্থানে পালকিতে বহনের কাজে নিযুক্ত থাকলেও কালের আবর্তনে সময়ের পরিধিতে বর্তমানে ওরা শাহজাদপুর পৌর এলাকায় পরিচ্ছন্নকর্মী হিসেবে কাজ করে জীবীকা নির্বাহ করছে।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী ছোট গল্প ‘পোষ্টমাষ্টার’ এর রতন চরিত্রটি শাহজাদপুরের আদিবাসী পরিবারে কোন এক তরুণীকে ঘিরেই আবর্তিত বলে ওদের দাবী। ১৮৯০ সালের ২০ জানুয়ারি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জমিদারি দেখাশোনার কাজে শাহজাদপুরে এসেছিলেন। সেই সময় কবিগুরুর সাথে হরিজন সম্প্রদায়ের আঁধা যাযাবর আদিবাসী বাগদি শশীনাথ বাগদি, অটোল বাগদি, কেদার নাথ বাগদি ও মুরালি বাগদিসহ ৯টি বাগদি পরিবারের পরিচয় ঘটে। ওদের সরলতা আর স্বকীয়তাবোধ কবিগুরুকে প্রভাবিত করে এবং কবিগুরু ওদের ভারতের বর্ধমান জেলা থেকে শাহজাদপুরে নিয়ে আসেন। ওই ৯ পরিবারকে কবিগুরু তাঁর পালকি বাহকের কাজ দেন ও বসবাসের জন্য ৩ বিঘা ১৭ শতক জমিও ওদের নামে বন্দোবস্ত দিয়েছিলেন।

বুধবার (৫ অক্টোবর) বিজয় দশমী উপলক্ষে ‘বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ’ শাহজাদপুর পৌর শাখার সভাপতি রতন বসাক ও সাধারন সম্পাদক মানিক সরকার প্রথমবারের মতো শাহজাদপুর পৌর এলাকার থানারঘাট করতোয়া নদীর ঘাটে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য স্বেচ্ছাসেবীর দায়িত্ব অর্পণ করেন ওদের ওপর। সেই গুরুদায়িত্ব ওরা ২২ জন কাঁধে নিয়ে পৌর এলাকার প্রতিমাগুলো সযতেœ বির্সজন কাজ সম্পন্ন করেন।

স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা জানান, ‘বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ’ শাহজাদপুর পৌর শাখার বলিষ্ঠ সভাপতি রতন বসাক ও বিপ্লবী সাধারন সম্পাদক মানিক সরকারসহ পৌর পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দদের তদারকি ও নির্দেশনায় স্বেচ্ছাসেবী ওরা বাহুবলী ২২ জন সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে ‘মা দুর্গা’সহ সকল প্রতিমাগুলোর বিসর্জন কাজ সম্পন্ন করে ব্যাপক প্রশংসা কুঁড়িয়েছে। আগামীতেও ওই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে ‘বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ’ শাহজাদপুর পৌর শাখার নেতৃবৃন্দ ও ওরা বাহুবলী ২২ জনের নিকট সকলের প্রত্যাশা!

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ওরা বাহুবলী ২২ জন!

আপডেট সময় : ০৯:১১:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর ২০২২

ডন, সীমান্ত, কমল, তুফান, স্বাধীন, জয়দেব, সুজিত, সুশান্ত, জয়, গনেশ, কার্তিক, বাশু, কার্তিক (বড়), সুদেব, প্রদীপ, শুভ, রাহুল, গোপাল, সুনীল, নিখিল, হৃদয়, বিশা- ওরা বাহুবলী ২২ জন! সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর পৌর এলাকার আদিবাসী পরিবারের সন্তান ওরা। অতীতে ওদের পূর্বপুরুষেরা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বিভিন্ন স্থানে পালকিতে বহনের কাজে নিযুক্ত থাকলেও কালের আবর্তনে সময়ের পরিধিতে বর্তমানে ওরা শাহজাদপুর পৌর এলাকায় পরিচ্ছন্নকর্মী হিসেবে কাজ করে জীবীকা নির্বাহ করছে।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কালজয়ী ছোট গল্প ‘পোষ্টমাষ্টার’ এর রতন চরিত্রটি শাহজাদপুরের আদিবাসী পরিবারে কোন এক তরুণীকে ঘিরেই আবর্তিত বলে ওদের দাবী। ১৮৯০ সালের ২০ জানুয়ারি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জমিদারি দেখাশোনার কাজে শাহজাদপুরে এসেছিলেন। সেই সময় কবিগুরুর সাথে হরিজন সম্প্রদায়ের আঁধা যাযাবর আদিবাসী বাগদি শশীনাথ বাগদি, অটোল বাগদি, কেদার নাথ বাগদি ও মুরালি বাগদিসহ ৯টি বাগদি পরিবারের পরিচয় ঘটে। ওদের সরলতা আর স্বকীয়তাবোধ কবিগুরুকে প্রভাবিত করে এবং কবিগুরু ওদের ভারতের বর্ধমান জেলা থেকে শাহজাদপুরে নিয়ে আসেন। ওই ৯ পরিবারকে কবিগুরু তাঁর পালকি বাহকের কাজ দেন ও বসবাসের জন্য ৩ বিঘা ১৭ শতক জমিও ওদের নামে বন্দোবস্ত দিয়েছিলেন।

বুধবার (৫ অক্টোবর) বিজয় দশমী উপলক্ষে ‘বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ’ শাহজাদপুর পৌর শাখার সভাপতি রতন বসাক ও সাধারন সম্পাদক মানিক সরকার প্রথমবারের মতো শাহজাদপুর পৌর এলাকার থানারঘাট করতোয়া নদীর ঘাটে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য স্বেচ্ছাসেবীর দায়িত্ব অর্পণ করেন ওদের ওপর। সেই গুরুদায়িত্ব ওরা ২২ জন কাঁধে নিয়ে পৌর এলাকার প্রতিমাগুলো সযতেœ বির্সজন কাজ সম্পন্ন করেন।

স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা জানান, ‘বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ’ শাহজাদপুর পৌর শাখার বলিষ্ঠ সভাপতি রতন বসাক ও বিপ্লবী সাধারন সম্পাদক মানিক সরকারসহ পৌর পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দদের তদারকি ও নির্দেশনায় স্বেচ্ছাসেবী ওরা বাহুবলী ২২ জন সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে ‘মা দুর্গা’সহ সকল প্রতিমাগুলোর বিসর্জন কাজ সম্পন্ন করে ব্যাপক প্রশংসা কুঁড়িয়েছে। আগামীতেও ওই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে ‘বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ’ শাহজাদপুর পৌর শাখার নেতৃবৃন্দ ও ওরা বাহুবলী ২২ জনের নিকট সকলের প্রত্যাশা!