ঢাকা ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

এশিয়ার বিখ্যাত বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ হালদা নদীতে মা মাছের আনাগোনা 

আসলাম পারভেজ, হাটহাজারী প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০২:১৫:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মার্চ ২০২৪
  • / ৪৯৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
আর মাত্র এক দেড়মাস পর এশিয়ার বিখ্যাত মৎস্য প্রজননক্ষেত্র বঙ্গবন্ধু মৎস্য হ্যারিটেজ হালদা নদীতে কার্প জাতীয় মা মাছ তথা রুই, কাতল, মৃগেল ও কালিবাউস মাছের ডিম ছাড়ার মৌসুম। প্রতিবছর এপ্রিল থেকে অমাবস্যা এবং পুর্ণিমায় এই দুটি  জোঁ শুরু হয়।
মৌসুমের শুরুতে বাংলা মাসের চৈত্র বৈশাখ থেকেই দেশের বিভিন্ন নদ-নদী থেকে ডিম দেয়ার উদ্দেশ্যে কার্প জাতীয় মা মাছ হালদার মুখ কর্ণফুলী নদী হয়ে হালদায় প্রবেশ করে। এ যেন সৃষ্টিকর্তার  লীলা খেলা। একের পর এক মা মাছ  হালদায় প্রবেশ করে। এক সময় আরও বড় আকারের মা মাছ প্রবেশ করলেও সে আকার এখন নেই। তবে প্রবেশে বিপত্তি ঘটে অবৈধভাবে জাল পাঁতানো মাছ শিকারিদের কারণে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কখনও ঘেরা জাল, কখনও ভাসা জাল কখনও বা হাত জাল আবার কখনও বড়শই ও বিষ প্রয়োগ করে মা মাছ নিধন করে এ মৌসুমে। বড় বড় মা মাছ  হালদায় প্রবেশ করে সে সব মাছের উপর নির্ভর করে ডইম সংগ্রহকারীরা।
তবে গত বছর হাটহাজারী ও রাউজান উপজেলা প্রশাসনের জোড়ালো অভিযানে মাছ শিখারিরা কোনঠাসা ছিল। মৌসুমের শুরু থেকেই হালদা ছিল নিরাপদ। যদিও মাঝে মাঝে মাছ শিখারিরা মা মাছের আশায় রাতের আঁধারে নদীতে জাল ফেললেও প্রশাসনের অভিযানে তা ভেস্তে যেত। যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। চৈত্র বৈশাখ থেকেই যেহেতু মা মাছ হালদায় প্রবেশ শুরু করে এবং কর্ণফুলী নদীর ছায়ারচর হয়েই আসে সেহেতু ওই অংশটিকে যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কঠোর নজরদারীতে রেখে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখে তাহলে মা মাছে ভরে যাবে হালদা নদী। পরিবেশ অনূকুলে থাকলে কাঙ্খিতের চাইতে অধিক পরিমান ডিম পাওয়া যাবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম মশিউজ্জামান বলেন, হালদার মা মাছ রক্ষায় এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। ওই স্থানটি হাটহাজারী উপজেলার বাহিরে হলেও হালদার স্বার্থে জেলা প্রশাসক মহোদয় এবং ওই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলে কঠোর নজরদারিতে রাখার ব্যবস্থা করা হবে। হালদার মা মাছ, ডলফিন ও জীব বৈচিত্র রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত আছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শ্রীবাস চন্দ্র দত্ত ডিম ছাড়ার মৌসুমের শুরুতেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়ায় প্রতিবেদককে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, মা মাছ যাতে নিরাপদে হালদায় প্রবেশ করতে পারে জেলা মৎস্য অফিসের পক্ষ থেকে সর্বাত্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতিমধ্যে হালদা সংশ্লিষ্ট উপজেলার মৎস্য অফিসে সার্বক্ষণিক নজরদারীর কথা জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছর মৌসুমের শুরুতে তিন চারবার খুবই অল্প পরিমান নমুনা ডিম ছাড়লেও একেবারে শেষ জোঁতে জুন মাসের ১৮ তারিখ রাতে রেকর্ড পরিমান ডিম ছাড়ে মা মাছ। ডিম ছাড়ার ঘন্টা দেড় ঘন্টার মধ্যেই ডিম সংগ্রহকারীরা কাঙ্খিতের চাইতে অধিক পরিমান ডিম সংগ্রহ করেন। তবে পর্যাপ্ত পরিমান হ্যাচারী না থাকায় অনেকেই ডিম নদীতেই ফেলে দেন। তবে এবার যদি সরকারি ভাবে আরো কয়েকটি হ্যাচারি নির্মানের জন্য পদক্ষেপ নেন তাহলে ডিম সংগ্রহকারীরা বেশি ডিম সংগ্রহ করলেও তেমন সমস্যা হবেনা ।
হালদা নদী থেকে প্রবীন এক ডিম সংগ্রহকারী জানান হালদা নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়তে আর মাত্র এক মাস থেকে দেড় মাস বাকি থাকলেও হালদা নদীতে মা মাছ  হালকা পাতলা ভাবে বিচরণ করতে দেখা যাচ্ছে,তবে তিনি আরো জানান বর্তমানে নদীর পানি লবণাক্ত রয়েছে তার কারনে এই লবণাক্ত পানি মা মাছের জন্য ক্ষতিকারক বলে জানান।
বাখ//আর

নিউজটি শেয়ার করুন

এশিয়ার বিখ্যাত বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ হালদা নদীতে মা মাছের আনাগোনা 

আপডেট সময় : ০২:১৫:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মার্চ ২০২৪
আর মাত্র এক দেড়মাস পর এশিয়ার বিখ্যাত মৎস্য প্রজননক্ষেত্র বঙ্গবন্ধু মৎস্য হ্যারিটেজ হালদা নদীতে কার্প জাতীয় মা মাছ তথা রুই, কাতল, মৃগেল ও কালিবাউস মাছের ডিম ছাড়ার মৌসুম। প্রতিবছর এপ্রিল থেকে অমাবস্যা এবং পুর্ণিমায় এই দুটি  জোঁ শুরু হয়।
মৌসুমের শুরুতে বাংলা মাসের চৈত্র বৈশাখ থেকেই দেশের বিভিন্ন নদ-নদী থেকে ডিম দেয়ার উদ্দেশ্যে কার্প জাতীয় মা মাছ হালদার মুখ কর্ণফুলী নদী হয়ে হালদায় প্রবেশ করে। এ যেন সৃষ্টিকর্তার  লীলা খেলা। একের পর এক মা মাছ  হালদায় প্রবেশ করে। এক সময় আরও বড় আকারের মা মাছ প্রবেশ করলেও সে আকার এখন নেই। তবে প্রবেশে বিপত্তি ঘটে অবৈধভাবে জাল পাঁতানো মাছ শিকারিদের কারণে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কখনও ঘেরা জাল, কখনও ভাসা জাল কখনও বা হাত জাল আবার কখনও বড়শই ও বিষ প্রয়োগ করে মা মাছ নিধন করে এ মৌসুমে। বড় বড় মা মাছ  হালদায় প্রবেশ করে সে সব মাছের উপর নির্ভর করে ডইম সংগ্রহকারীরা।
তবে গত বছর হাটহাজারী ও রাউজান উপজেলা প্রশাসনের জোড়ালো অভিযানে মাছ শিখারিরা কোনঠাসা ছিল। মৌসুমের শুরু থেকেই হালদা ছিল নিরাপদ। যদিও মাঝে মাঝে মাছ শিখারিরা মা মাছের আশায় রাতের আঁধারে নদীতে জাল ফেললেও প্রশাসনের অভিযানে তা ভেস্তে যেত। যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। চৈত্র বৈশাখ থেকেই যেহেতু মা মাছ হালদায় প্রবেশ শুরু করে এবং কর্ণফুলী নদীর ছায়ারচর হয়েই আসে সেহেতু ওই অংশটিকে যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কঠোর নজরদারীতে রেখে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখে তাহলে মা মাছে ভরে যাবে হালদা নদী। পরিবেশ অনূকুলে থাকলে কাঙ্খিতের চাইতে অধিক পরিমান ডিম পাওয়া যাবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম মশিউজ্জামান বলেন, হালদার মা মাছ রক্ষায় এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। ওই স্থানটি হাটহাজারী উপজেলার বাহিরে হলেও হালদার স্বার্থে জেলা প্রশাসক মহোদয় এবং ওই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলে কঠোর নজরদারিতে রাখার ব্যবস্থা করা হবে। হালদার মা মাছ, ডলফিন ও জীব বৈচিত্র রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত আছে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শ্রীবাস চন্দ্র দত্ত ডিম ছাড়ার মৌসুমের শুরুতেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়ায় প্রতিবেদককে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, মা মাছ যাতে নিরাপদে হালদায় প্রবেশ করতে পারে জেলা মৎস্য অফিসের পক্ষ থেকে সর্বাত্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতিমধ্যে হালদা সংশ্লিষ্ট উপজেলার মৎস্য অফিসে সার্বক্ষণিক নজরদারীর কথা জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছর মৌসুমের শুরুতে তিন চারবার খুবই অল্প পরিমান নমুনা ডিম ছাড়লেও একেবারে শেষ জোঁতে জুন মাসের ১৮ তারিখ রাতে রেকর্ড পরিমান ডিম ছাড়ে মা মাছ। ডিম ছাড়ার ঘন্টা দেড় ঘন্টার মধ্যেই ডিম সংগ্রহকারীরা কাঙ্খিতের চাইতে অধিক পরিমান ডিম সংগ্রহ করেন। তবে পর্যাপ্ত পরিমান হ্যাচারী না থাকায় অনেকেই ডিম নদীতেই ফেলে দেন। তবে এবার যদি সরকারি ভাবে আরো কয়েকটি হ্যাচারি নির্মানের জন্য পদক্ষেপ নেন তাহলে ডিম সংগ্রহকারীরা বেশি ডিম সংগ্রহ করলেও তেমন সমস্যা হবেনা ।
হালদা নদী থেকে প্রবীন এক ডিম সংগ্রহকারী জানান হালদা নদীতে মা মাছ ডিম ছাড়তে আর মাত্র এক মাস থেকে দেড় মাস বাকি থাকলেও হালদা নদীতে মা মাছ  হালকা পাতলা ভাবে বিচরণ করতে দেখা যাচ্ছে,তবে তিনি আরো জানান বর্তমানে নদীর পানি লবণাক্ত রয়েছে তার কারনে এই লবণাক্ত পানি মা মাছের জন্য ক্ষতিকারক বলে জানান।
বাখ//আর