ঢাকা ০২:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

একটি সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগে হাজারো কৃষক

মোঃ খাদেমুল ইসলাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২১:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪
  • / ৪৩৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রধানমন্ত্রীর মহাপ্রকল্পের আওতায় বিআইডব্লিউটিএর অধীনে দিনাজপুরের তুলাই(তুলসী গঙ্গা), পুনর্ভবা, আত্রাই নদী খননের ফলে উপকৃত হয়েছে লাখ লাখ মানুষ। নদী খননের পর থেকে নদীতে মিলছে মাছ, বন্যা থেকে রক্ষা পাচ্ছে মাঠের ফসল, নদীর পানি দিয়ে সেঁচ দেয়ায় খরচ কমছে কৃষি পণ্য উৎপাদনে।

এদিকে, নদী খননের ফলে চরম বিপাকে পড়েছে নদী তীরে দুই ধারের ৪৬ কিলোমিটার জুড়ে বিভিন্ন গ্রামের লক্ষ লক্ষ মানুষ। নদী খননের আগে নদীতে পানি না থাকায় অনায়াসেই নদীর এপার ওপার থেকে ফসল আনা নেয়ায় তেমন কোন অসুবিধা হতো না নদীর দুই তীরের কৃষকদের। কিন্তু বর্তমানে বিরল উপজেলার বিশেষত মাধববাটি গ্রামের চেয়ারম্যান পাড়া, কাবলিপাড়া, পূর্ব সাহাপাড়ার হাজারো কৃষক পড়েছেন মহাবিপাকে। নদীতে স্রোতধারা থাকায় ওপারের ফসল আনতে পারছেন না অনেকেই। অনেকেই ফসলের মাঠেই বিক্রি করে দিচ্ছেন উৎপাদিত ফসল । আর এই  সুযোগ নিচ্ছেন ব্যাপারীরা। যোগাযোগ অসুবিধার কথা বলে কৃষকদের কাছ থেকে খুব কম মূল্যে লিচু, ধান,  ভুট্টা সহ বিভিন্ন সবজি কিনছেন তারা।

মাধববাটি গ্রামের কাবলি পাড়া এলাকার রফিকুল ইসলাম বলেন, নদীর ওই পারে কড়াই বিলে এই পারের কয়েক হাজার কৃষকের হাজার বিঘায় উপরে জমি রয়েছে । নদীতে পানি থাকায় ফসল আনতে নানা ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে তাদের। র্বশাহপাড়ার ভাবীর মোড় থেকে কড়াইবিল যাওয়ার রাস্তায় একটি ব্রিজ নির্মাণ খুব জরুরী হয়ে পড়েছে। ‌‌ তাই কড়াই বিলের সঙ্গে একটি কানেক্টিং ব্রিজ তৈরি করে দিয়ে হাজারো কৃষকের দুর্ভোগের  লাঘব করার দাবি জানান তিনি।

পূর্ব শাহাপাড়া এলাকার শহীদ উদ্দিনের পুত্র আব্দুস সালাম বলেন, কড়াই বিলে প্রায় ৫০০ একর জমিতে লিচু বাগান রয়েছে। যোগাযোগের ব্যবস্থা খারাপ এ কারণে এই লিচুগুলি আমাদেরকে বাজারের প্রচলিত মূল্যের চেয়ে প্রায় অর্ধেক দামে বিক্রি করে দিতে হয়। এছাড়াও ধান ভুট্টা বিভিন্ন সবজির ক্ষেত্রে একই অবস্থা। কৃষকদের নানা সমস্যায় পড়তে হয় একটি ব্রিজের অভাবের কারণে। আমি স্থানীয় প্রশাসন, অত্র এলাকার চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দসহ নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এম পি’র এ বিষয়ে সদয় দৃষ্টি কামনা করছি। কারণ বিরলের অর্থনীতিতে মাধববাটি গ্রামের অবদান অনেক ওপরে।

‘পূর্ব শাহাপাড়া থেকে প্রয়াত আলহাজ্ব শামসুদ্দিন (অত্র অঞ্চলে বিশেষ করে মাধববাটি গ্রামে লিচু চাষে যার অবদান শিখরে) এর এর বাড়ির সামনে দিয়ে কড়াই বিল কে কানেক্ট করতে একটি ব্রিজ ভীষণ জরুরী হয়ে দেখা  দিয়েছে ‌‌। একটি ব্রিজ হতে পারে এই পাড়ার মানুষের স্মার্ট গ্রাম বিনির্মাণে একটি অন্যতম উদ্যোগ। ব্রিজের অভাবে আমরা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। আমি আশা করছি সংশ্লিষ্টদের সুদৃষ্টি কামনা করছি।।”এমন অভিমত প্রয়াত কিনা মোহাম্মদের ছেলে কৃষক ওয়াজদ্দিনের।

স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার মোঃ রেজাউল ইসলাম বলেন, আমি বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহোদয়কে অবহিত করেছি। তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেছেন। ইনশাআল্লাহ, অচিরেই এই এলাকার কয়েক হাজার কৃষকের  দুর্ভোগ লাঘব হবে।

৫ নং বিরল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মারুফ হোসেন বলেন, সমস্যাগুলো চিহ্নিত হয়েছে । উপজেলা প্রশাসনের মাসিক সমন্বয় সভায় এ বিষয়ে আমি প্রস্তাবনা রেখেছি। প্রশাসন এগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছে।

বিরল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বিরল পৌরসভার বেশ কয়েকবারের মেয়র আলহাজ্ব সবুজার সিদ্দিক সাগর বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মহাপ্রকল্পের আওতায় এসব স্থানে কানেক্টিং ব্রিজ তৈরি করে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ধীরে ধীরে আগামীতে তা বাস্তবায়িত হবে। এরই মধ্যে নদীর দুই ধারে বৃক্ষরোপন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালেদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মহাপ্রকল্পে নদীকে ‘ফিরিয়ে দিতে হবে তার প্রাণ’এমন মিশন ও ভিশন নিয়ে কাজ করছি আমরা। শুধু তুলাই পূর্ণভবা সারাদেশের বাংলাদেশে নদীগুলোকে তার আদি রূপে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে এর সফলতা পাওয়ার কথা বলছে কৃষকরা। মৎস্য বিভাগ বলছে বিলুপ্তপ্রায় অনেক মাছ এখন নদীতে পাওয়া যাচ্ছে। এটাই হলো শেখ হাসিনার স্বপ্ন । শুধু নদী খনন নয় নদীর দুই ধারে শোভাবর্ধন করা হবে। তৈরি করা হবে রাস্তা। এরই মধ্যে রোপন করা হয়েছে কয়েক লক্ষ গাছ। যে সমস্ত জায়গায় নদীর এপার ওপারের সঙ্গে কৃষি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে সেসব স্থানে কানেক্টিং ব্রিজ তৈরি করে দেয়া হবে। এতে করে বর্তমানে কৃষকরা যে সমস্যায় ভুগছেন তার নিরসন হবে।  প্রত্যেকটি গ্রাম হব শহর এমন আদর্শিক অবস্থান থেকে কাজ করছি।

তবে এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

একটি সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগে হাজারো কৃষক

আপডেট সময় : ০৯:২১:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪

প্রধানমন্ত্রীর মহাপ্রকল্পের আওতায় বিআইডব্লিউটিএর অধীনে দিনাজপুরের তুলাই(তুলসী গঙ্গা), পুনর্ভবা, আত্রাই নদী খননের ফলে উপকৃত হয়েছে লাখ লাখ মানুষ। নদী খননের পর থেকে নদীতে মিলছে মাছ, বন্যা থেকে রক্ষা পাচ্ছে মাঠের ফসল, নদীর পানি দিয়ে সেঁচ দেয়ায় খরচ কমছে কৃষি পণ্য উৎপাদনে।

এদিকে, নদী খননের ফলে চরম বিপাকে পড়েছে নদী তীরে দুই ধারের ৪৬ কিলোমিটার জুড়ে বিভিন্ন গ্রামের লক্ষ লক্ষ মানুষ। নদী খননের আগে নদীতে পানি না থাকায় অনায়াসেই নদীর এপার ওপার থেকে ফসল আনা নেয়ায় তেমন কোন অসুবিধা হতো না নদীর দুই তীরের কৃষকদের। কিন্তু বর্তমানে বিরল উপজেলার বিশেষত মাধববাটি গ্রামের চেয়ারম্যান পাড়া, কাবলিপাড়া, পূর্ব সাহাপাড়ার হাজারো কৃষক পড়েছেন মহাবিপাকে। নদীতে স্রোতধারা থাকায় ওপারের ফসল আনতে পারছেন না অনেকেই। অনেকেই ফসলের মাঠেই বিক্রি করে দিচ্ছেন উৎপাদিত ফসল । আর এই  সুযোগ নিচ্ছেন ব্যাপারীরা। যোগাযোগ অসুবিধার কথা বলে কৃষকদের কাছ থেকে খুব কম মূল্যে লিচু, ধান,  ভুট্টা সহ বিভিন্ন সবজি কিনছেন তারা।

মাধববাটি গ্রামের কাবলি পাড়া এলাকার রফিকুল ইসলাম বলেন, নদীর ওই পারে কড়াই বিলে এই পারের কয়েক হাজার কৃষকের হাজার বিঘায় উপরে জমি রয়েছে । নদীতে পানি থাকায় ফসল আনতে নানা ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে তাদের। র্বশাহপাড়ার ভাবীর মোড় থেকে কড়াইবিল যাওয়ার রাস্তায় একটি ব্রিজ নির্মাণ খুব জরুরী হয়ে পড়েছে। ‌‌ তাই কড়াই বিলের সঙ্গে একটি কানেক্টিং ব্রিজ তৈরি করে দিয়ে হাজারো কৃষকের দুর্ভোগের  লাঘব করার দাবি জানান তিনি।

পূর্ব শাহাপাড়া এলাকার শহীদ উদ্দিনের পুত্র আব্দুস সালাম বলেন, কড়াই বিলে প্রায় ৫০০ একর জমিতে লিচু বাগান রয়েছে। যোগাযোগের ব্যবস্থা খারাপ এ কারণে এই লিচুগুলি আমাদেরকে বাজারের প্রচলিত মূল্যের চেয়ে প্রায় অর্ধেক দামে বিক্রি করে দিতে হয়। এছাড়াও ধান ভুট্টা বিভিন্ন সবজির ক্ষেত্রে একই অবস্থা। কৃষকদের নানা সমস্যায় পড়তে হয় একটি ব্রিজের অভাবের কারণে। আমি স্থানীয় প্রশাসন, অত্র এলাকার চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দসহ নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এম পি’র এ বিষয়ে সদয় দৃষ্টি কামনা করছি। কারণ বিরলের অর্থনীতিতে মাধববাটি গ্রামের অবদান অনেক ওপরে।

‘পূর্ব শাহাপাড়া থেকে প্রয়াত আলহাজ্ব শামসুদ্দিন (অত্র অঞ্চলে বিশেষ করে মাধববাটি গ্রামে লিচু চাষে যার অবদান শিখরে) এর এর বাড়ির সামনে দিয়ে কড়াই বিল কে কানেক্ট করতে একটি ব্রিজ ভীষণ জরুরী হয়ে দেখা  দিয়েছে ‌‌। একটি ব্রিজ হতে পারে এই পাড়ার মানুষের স্মার্ট গ্রাম বিনির্মাণে একটি অন্যতম উদ্যোগ। ব্রিজের অভাবে আমরা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। আমি আশা করছি সংশ্লিষ্টদের সুদৃষ্টি কামনা করছি।।”এমন অভিমত প্রয়াত কিনা মোহাম্মদের ছেলে কৃষক ওয়াজদ্দিনের।

স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার মোঃ রেজাউল ইসলাম বলেন, আমি বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহোদয়কে অবহিত করেছি। তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেছেন। ইনশাআল্লাহ, অচিরেই এই এলাকার কয়েক হাজার কৃষকের  দুর্ভোগ লাঘব হবে।

৫ নং বিরল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মারুফ হোসেন বলেন, সমস্যাগুলো চিহ্নিত হয়েছে । উপজেলা প্রশাসনের মাসিক সমন্বয় সভায় এ বিষয়ে আমি প্রস্তাবনা রেখেছি। প্রশাসন এগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছে।

বিরল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বিরল পৌরসভার বেশ কয়েকবারের মেয়র আলহাজ্ব সবুজার সিদ্দিক সাগর বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মহাপ্রকল্পের আওতায় এসব স্থানে কানেক্টিং ব্রিজ তৈরি করে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ধীরে ধীরে আগামীতে তা বাস্তবায়িত হবে। এরই মধ্যে নদীর দুই ধারে বৃক্ষরোপন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালেদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মহাপ্রকল্পে নদীকে ‘ফিরিয়ে দিতে হবে তার প্রাণ’এমন মিশন ও ভিশন নিয়ে কাজ করছি আমরা। শুধু তুলাই পূর্ণভবা সারাদেশের বাংলাদেশে নদীগুলোকে তার আদি রূপে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে এর সফলতা পাওয়ার কথা বলছে কৃষকরা। মৎস্য বিভাগ বলছে বিলুপ্তপ্রায় অনেক মাছ এখন নদীতে পাওয়া যাচ্ছে। এটাই হলো শেখ হাসিনার স্বপ্ন । শুধু নদী খনন নয় নদীর দুই ধারে শোভাবর্ধন করা হবে। তৈরি করা হবে রাস্তা। এরই মধ্যে রোপন করা হয়েছে কয়েক লক্ষ গাছ। যে সমস্ত জায়গায় নদীর এপার ওপারের সঙ্গে কৃষি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে সেসব স্থানে কানেক্টিং ব্রিজ তৈরি করে দেয়া হবে। এতে করে বর্তমানে কৃষকরা যে সমস্যায় ভুগছেন তার নিরসন হবে।  প্রত্যেকটি গ্রাম হব শহর এমন আদর্শিক অবস্থান থেকে কাজ করছি।

তবে এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।