ঢাকা ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

একটি লিচুর দাম ২০ টাকা : তবুও বোঝেনা মন বোঝেনা

মো: খাদেমুল ইসলাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:২১:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ জুন ২০২৪
  • / ৪৬৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

লিচুর জেলা দিনাজপুরে পুরোদমে চলছে বিকি কিনি। খুব ভোর থেকে শহরের কালিতলা নিউমার্কেট এলাকা ক্রেতা বিক্রেতার ব্যস্ত সমস্ত চলাচল। সকাল হতে না হতেই গ্রাম থেকে অটো রিক্সা যোগে চাষীরা এবং ব্যবসায়ীরা নিয়ে আসছে লিচু বিক্রি করতে। কেউ কেউ আবার বাগানেই লিচু বিক্রি করছে এবং সেখান থেকে ট্রাকযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব লিচু পৌঁছে যাচ্ছে ট্রাক যোগে ।

আজ ৭ জুন দিনাজপুরের বাজারে প্রতি হাজার বেদনা জাতের লিচু বিক্রি হচ্ছে আট হাজার টাকা থেকে ১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত, চায়না থ্রিজাতের ভালো মানের লিচু বিক্রি হচ্ছে সর্বনিম্ন ১৪ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত এবং বোম্বাই জাতের লিচু প্রতি হাজার বিক্রি হচ্ছে ২৮০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪২০০ টাকা পর্যন্ত। মাদ্রাজী জাত লিচু বাজারে নেই বললেই চলে।

ফরিদপুর জেলার বাসিন্দা মোঃ কায়সার আলী জাতীয় একটি বেসরকারি সংস্থার জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা। ঢাকায় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে উন্নত জাতের লিচু পাঠাতে লিচু বাজারে এসেছেন লিচু কিনতে।

একটি লিচুর দাম ২০ টাকা, বাজারে এই জাতের লিচুর যোগান খুব কম। লিচু না কেনার কোন বিকল্প নেই। দাম যাই হোক লিচু কিনতেই হবে।তবুও বোঝেনা মন বোঝেনা । কি করার আছে ভাই”একেবারে নির্জলা অভিব্যক্তি ওই কর্মকর্তার।

নিউমার্কেট কাঁচা বাজার সমিতির নেতা মিন্টু মিয়া বলেন, এবারে তীব্র তাপদাহে বেদনা ও চায়না থ্রি জাতের লিচুর মুকুল গুলি পুড়ে গেছে, যে কারণে ওই জাতের লিচুর যোগান বাজারে খুব কম কিন্তু চাহিদা অত্যন্ত বেশি এর ফলে বাড়ছে দাম। আগামীতে আরও বাড়ার পূর্বাভাস দিলেন তিনি।

জেলার বিরল উপজেলার মহেশপুর গ্রামের লিচু ব্যবসায়ী আজিজুল ইসলাম বলেন, ৩৫ থেকে ৪৫ শতাংশ বেদনা ও চায়না থ্রি জাতের লিচুর মুকুল সম্পূর্ণ রূপে পুড়ে গেছে। অবশিষ্ট যেগুলি রয়েছে সেগুলি পরিচর্যায় প্রচুর পরিমাণ খরচ হচ্ছে। প্রতিকূল আবহাওয়ায় লিচু রক্ষায় দিনরাত পরিশ্রম করতে হচ্ছে। তবে বোম্বাই জাতের লিচু প্রচুর পরিমাণে আছে। এখনো পুরোদমে গাছ থেকে পারা শুরু হয়নি এই জাতের লিচু‌।

বিরল উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এ এস এম হানিফ বলেন, প্রচন্ড গরমে ও তাপদাহে এবার লিচুর বাগান গুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। করণীয় বিষয়ে আমরা কৃষকদের এবং ব্যবসায়ীদের প্রতিনিয়ত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। এসব পরামর্শের মধ্যে রয়েছে বিকেলের দিকে বাগানের সেচ দেওয়া, গাছে পানি স্প্রে করা। এছাড়াও ভিটামিন জাতীয় কিছু অনুখাদ্য ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছি। গেল মৌসুমী শেষের দিকে অনেক লিচুর বাগান পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাগান মালিক ও লিচু ব্যবসায়ীরা। তবে এবার মাদ্রাজি লিচুর ফলন বেশ ভালো। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বোম্বাই লিচুর ক্ষেত্রে বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা লাভবান হবে।

বিরল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোস্তফা হাসান ইমাম বলেন দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বেপারীরা এসেছে এই উপজেলায় লিচু কিনতে। এদের থাকা খাওয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে আমরা খোঁজ খবর রাখছি। কেউ যাতে কোন প্রকার হয়রানির শিকার না হয় সেদিকেও স্থানীয় প্রশাসন দৃষ্টি রাখছে। বাজারে এবার লিচুর দাম বেশ ভালো। কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে পারলে নিশ্চিত হবে স্মার্ট বাংলাদেশ। সরকারের নির্দেশনায় এ লক্ষ্যই কাজ করে যাচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের উপপরিচালক কৃষিবিদ নুরুজ্জামান বলেন, এবার মৌসুমের শুরু থেকেই আমরা লিচু বাগান গুলোর দিকে বিশেষ দৃষ্টি রেখেছি। আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে সদা তৎপর। অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখতে কৃষকদের নিয়ে কর্মশালসহ মাঠ দিবস পালন করা হয়েছে। আগের তুলনায় কীটনাশকের ব্যবহার অনেক কমেছে। ব্যবসায়ীরা বর্তমানে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে পরিমিত পরিমাণ কীটনাশক ব্যবহার করছে। বিষমুক্ত লিচু উৎপাদনে দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সদা তৎপর।

জেলার ১৩ টি উপজেলায় ছোট বড় মিলে প্রায় সাত হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের লিচুবাগান রয়েছে। এসব জাতের মধ্যে রয়েছে মাদ্রাজি, বোম্বাই ,চায়না থ্রি, বেদনা, কাঠালী, হাড়িয়া, এলাচি সহ আরো কয়েকটি জাত। জেলার বিরল উপজেলায় বাগান রয়েছে প্রায় তিন হাজার হেক্টর জমিতে, এর মধ্যে মাধববাটি গ্রামে ছোট বড় মিলে প্রায় ২৫০০ হেক্টর জমিতে যা জেলার মোট বাগানের ৪৩ শতাংশ। জেলায় প্রতি মৌসুমে লিচু উৎপাদিত হয়ে থাকে ৬৫ হাজার থেকে

বাখ//আর

নিউজটি শেয়ার করুন

একটি লিচুর দাম ২০ টাকা : তবুও বোঝেনা মন বোঝেনা

আপডেট সময় : ০৬:২১:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ জুন ২০২৪

লিচুর জেলা দিনাজপুরে পুরোদমে চলছে বিকি কিনি। খুব ভোর থেকে শহরের কালিতলা নিউমার্কেট এলাকা ক্রেতা বিক্রেতার ব্যস্ত সমস্ত চলাচল। সকাল হতে না হতেই গ্রাম থেকে অটো রিক্সা যোগে চাষীরা এবং ব্যবসায়ীরা নিয়ে আসছে লিচু বিক্রি করতে। কেউ কেউ আবার বাগানেই লিচু বিক্রি করছে এবং সেখান থেকে ট্রাকযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব লিচু পৌঁছে যাচ্ছে ট্রাক যোগে ।

আজ ৭ জুন দিনাজপুরের বাজারে প্রতি হাজার বেদনা জাতের লিচু বিক্রি হচ্ছে আট হাজার টাকা থেকে ১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত, চায়না থ্রিজাতের ভালো মানের লিচু বিক্রি হচ্ছে সর্বনিম্ন ১৪ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত এবং বোম্বাই জাতের লিচু প্রতি হাজার বিক্রি হচ্ছে ২৮০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪২০০ টাকা পর্যন্ত। মাদ্রাজী জাত লিচু বাজারে নেই বললেই চলে।

ফরিদপুর জেলার বাসিন্দা মোঃ কায়সার আলী জাতীয় একটি বেসরকারি সংস্থার জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা। ঢাকায় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে উন্নত জাতের লিচু পাঠাতে লিচু বাজারে এসেছেন লিচু কিনতে।

একটি লিচুর দাম ২০ টাকা, বাজারে এই জাতের লিচুর যোগান খুব কম। লিচু না কেনার কোন বিকল্প নেই। দাম যাই হোক লিচু কিনতেই হবে।তবুও বোঝেনা মন বোঝেনা । কি করার আছে ভাই”একেবারে নির্জলা অভিব্যক্তি ওই কর্মকর্তার।

নিউমার্কেট কাঁচা বাজার সমিতির নেতা মিন্টু মিয়া বলেন, এবারে তীব্র তাপদাহে বেদনা ও চায়না থ্রি জাতের লিচুর মুকুল গুলি পুড়ে গেছে, যে কারণে ওই জাতের লিচুর যোগান বাজারে খুব কম কিন্তু চাহিদা অত্যন্ত বেশি এর ফলে বাড়ছে দাম। আগামীতে আরও বাড়ার পূর্বাভাস দিলেন তিনি।

জেলার বিরল উপজেলার মহেশপুর গ্রামের লিচু ব্যবসায়ী আজিজুল ইসলাম বলেন, ৩৫ থেকে ৪৫ শতাংশ বেদনা ও চায়না থ্রি জাতের লিচুর মুকুল সম্পূর্ণ রূপে পুড়ে গেছে। অবশিষ্ট যেগুলি রয়েছে সেগুলি পরিচর্যায় প্রচুর পরিমাণ খরচ হচ্ছে। প্রতিকূল আবহাওয়ায় লিচু রক্ষায় দিনরাত পরিশ্রম করতে হচ্ছে। তবে বোম্বাই জাতের লিচু প্রচুর পরিমাণে আছে। এখনো পুরোদমে গাছ থেকে পারা শুরু হয়নি এই জাতের লিচু‌।

বিরল উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এ এস এম হানিফ বলেন, প্রচন্ড গরমে ও তাপদাহে এবার লিচুর বাগান গুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। করণীয় বিষয়ে আমরা কৃষকদের এবং ব্যবসায়ীদের প্রতিনিয়ত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। এসব পরামর্শের মধ্যে রয়েছে বিকেলের দিকে বাগানের সেচ দেওয়া, গাছে পানি স্প্রে করা। এছাড়াও ভিটামিন জাতীয় কিছু অনুখাদ্য ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছি। গেল মৌসুমী শেষের দিকে অনেক লিচুর বাগান পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাগান মালিক ও লিচু ব্যবসায়ীরা। তবে এবার মাদ্রাজি লিচুর ফলন বেশ ভালো। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বোম্বাই লিচুর ক্ষেত্রে বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা লাভবান হবে।

বিরল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোস্তফা হাসান ইমাম বলেন দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বেপারীরা এসেছে এই উপজেলায় লিচু কিনতে। এদের থাকা খাওয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে আমরা খোঁজ খবর রাখছি। কেউ যাতে কোন প্রকার হয়রানির শিকার না হয় সেদিকেও স্থানীয় প্রশাসন দৃষ্টি রাখছে। বাজারে এবার লিচুর দাম বেশ ভালো। কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে পারলে নিশ্চিত হবে স্মার্ট বাংলাদেশ। সরকারের নির্দেশনায় এ লক্ষ্যই কাজ করে যাচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের উপপরিচালক কৃষিবিদ নুরুজ্জামান বলেন, এবার মৌসুমের শুরু থেকেই আমরা লিচু বাগান গুলোর দিকে বিশেষ দৃষ্টি রেখেছি। আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে সদা তৎপর। অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করা থেকে বিরত রাখতে কৃষকদের নিয়ে কর্মশালসহ মাঠ দিবস পালন করা হয়েছে। আগের তুলনায় কীটনাশকের ব্যবহার অনেক কমেছে। ব্যবসায়ীরা বর্তমানে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে পরিমিত পরিমাণ কীটনাশক ব্যবহার করছে। বিষমুক্ত লিচু উৎপাদনে দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সদা তৎপর।

জেলার ১৩ টি উপজেলায় ছোট বড় মিলে প্রায় সাত হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের লিচুবাগান রয়েছে। এসব জাতের মধ্যে রয়েছে মাদ্রাজি, বোম্বাই ,চায়না থ্রি, বেদনা, কাঠালী, হাড়িয়া, এলাচি সহ আরো কয়েকটি জাত। জেলার বিরল উপজেলায় বাগান রয়েছে প্রায় তিন হাজার হেক্টর জমিতে, এর মধ্যে মাধববাটি গ্রামে ছোট বড় মিলে প্রায় ২৫০০ হেক্টর জমিতে যা জেলার মোট বাগানের ৪৩ শতাংশ। জেলায় প্রতি মৌসুমে লিচু উৎপাদিত হয়ে থাকে ৬৫ হাজার থেকে

বাখ//আর