ঢাকা ০৬:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

ঈশ্বরদীতে রাস্তা সম্প্রসারণের নামে কাটা হলো অর্ধশতবর্ষী বটগাছ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৬:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জুন ২০২৩
  • / ৪৪১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

// ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি //

ঈশ্বরদীতে রাস্তা সম্প্রসারণের নামে সড়ক ও জনপথ পাবনা কার্যালয় কেটে ফেললো অর্ধশতবর্ষী দুটি বটগাছ।
বটগাছ দুটি রেখেও রাস্তা সম্প্রসারণ সম্ভব ছিল বলে দাবী করে গাছ কাটার বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ঈশ্বরদীর স্বার্থ সংগ্রাম পরিষদ ও পরিবেশবিদরা।
শনিবার ১৭ জুন সকাল থেকে পাবনা-ঈশ্বরদী মহাসড়কের ঈশ্বরদী আলহাজ্ব ট্রাফিক মোড় ও আলোবাগ মোড়ের বৃহৎ দুটি বটগাছ কেটে ফেলা হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুষ্টিয়ার মেসার্স বকুল এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক মোঃ লিটন লোকজন লাগিয়ে গাছ কাটছেন। পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন সড়ক ও জনপথ পাবনা অধিদপ্তরের ওয়ার্ক এসিট্যান্ট মোঃ তাজুল ইসলাম।
বটগাছ দুটি কাটার বিষয়ে মোঃ লিটন বলেন, আমরা দরপত্রের মাধ্যমে পাওয়া ঈশ্বরদী-পাবনা মহাসড়কে থাকা বড় ও মাঝারি আকারের ৫৯ টি শুকনো ও মরা রেইনট্রি কড়ই গাছ কাটছি। রাস্তার সম্প্রসারণের জন্য আলহাজ্ব ট্রাফিক মোড় ও আলোবাগ মোড়ের তেল পাম্পের নিকটের দুটি বটগাছ কেটে দেওয়ার জন্য সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়। আমরা সেই নির্দেশে বটগাছ দুটি কেটে দিচ্ছি।
সড়ক ও জনপথ পাবনা অধিদপ্তরের ওয়ার্ক এসিট্যান্ট মোঃ তাজুল ইসলাম বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী স্যারের নির্দেশে বটগাছ দুটি কাটা হচ্ছে।
ঈশ্বরদীর আলহাজ্ব ট্রাফিক মোড়ের ওষুধের দোকানী আব্দুল হামিদ, কনফেকশনারি দোকানী সেলিম আহমেদ ও চায়ের দোকানী শাহজাহান আলী বলেন ও এলাকাবাসী বলেন, বটগাছ দুটি মোড়কে ছায়া করে রাখতো। প্রচন্ড গরমে বিভিন্ন শ্রেণির পথচারীরা ক্লান্তি দুর করতে বটগাছের নিচে এসে দাড়াত। বাসযাত্রীরা এই বটগাছের নিচে এসে দাড়াত, বিশ্রাম নিত, বাসের জন্য অপেক্ষা করত। কিন্তু রাস্তা সম্প্রসারণের নামে গাছ দুটি কেটে ফেলা হলো। এটা খুবই দুঃখজনক।
এলাকাবাসী আরও জানান, গাছটি যদি না কাটা হত তাহলেই ভালো হত। যেহেতু গাছটি কেটেই ফেলা হয়েছে সেহেতু সরকারের পক্ষ থেকে আলহাজ্ব মোড়ের আশেপাশে আরও গাছ লাগানো হোক অথবা আমরা এলাকাবাসীদের সহযোগিতা করা হোক। প্রধানমন্ত্রী যেখানে বলেছে একটি গাছ কাটা হলে ত্রিশটি গাছ লাগাতে, সেখানে এই অর্ধশতবর্ষী বটগাছের জন্য অন্তত তিনশত গাছ লাগানো উচিৎ।
গাছকাটার বিষয়ে ঈশ্বরদীর বিশিষ্ট পরিবেশবিদ প্রাইমারি কালচার ডিভেলপম্যান্ট সেন্টারের পরিচালক মোশাররফ হোসেন মুসা বলেন, মানুষের জায়গায় সরকারীভাবে গাছ লাগানো হয় না। অপরিকল্পিতভাবে সরকারী জায়গায় গাছ লাগানো হয়। ফলে নগরায়ন, রাস্তা নির্মাণ বা সম্প্রসারণ এবং বৈদ্যুতিক তার টানার জন্য গাছ কেটে ফেলা হয়। এটা পরিবেশের জন্য খুবই হুমকি। এই কারণে পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানোর বিকল্প নেই।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদ বলেন, রাস্তা সম্প্রসারণের কাজে সমস্যা হওয়ায় ঈশ্বরদীর আলহাজ্ব ট্রাফিক মোড় ও আলোবাগ মোড়ের তেলপাম্প সংলগ্ন দুটি বটগাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। বটগাছ দুটি না কাটা হলে রাস্তা সম্প্রসারণ কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

ঈশ্বরদীতে রাস্তা সম্প্রসারণের নামে কাটা হলো অর্ধশতবর্ষী বটগাছ

আপডেট সময় : ১০:০৬:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জুন ২০২৩

// ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি //

ঈশ্বরদীতে রাস্তা সম্প্রসারণের নামে সড়ক ও জনপথ পাবনা কার্যালয় কেটে ফেললো অর্ধশতবর্ষী দুটি বটগাছ।
বটগাছ দুটি রেখেও রাস্তা সম্প্রসারণ সম্ভব ছিল বলে দাবী করে গাছ কাটার বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ঈশ্বরদীর স্বার্থ সংগ্রাম পরিষদ ও পরিবেশবিদরা।
শনিবার ১৭ জুন সকাল থেকে পাবনা-ঈশ্বরদী মহাসড়কের ঈশ্বরদী আলহাজ্ব ট্রাফিক মোড় ও আলোবাগ মোড়ের বৃহৎ দুটি বটগাছ কেটে ফেলা হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুষ্টিয়ার মেসার্স বকুল এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক মোঃ লিটন লোকজন লাগিয়ে গাছ কাটছেন। পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন সড়ক ও জনপথ পাবনা অধিদপ্তরের ওয়ার্ক এসিট্যান্ট মোঃ তাজুল ইসলাম।
বটগাছ দুটি কাটার বিষয়ে মোঃ লিটন বলেন, আমরা দরপত্রের মাধ্যমে পাওয়া ঈশ্বরদী-পাবনা মহাসড়কে থাকা বড় ও মাঝারি আকারের ৫৯ টি শুকনো ও মরা রেইনট্রি কড়ই গাছ কাটছি। রাস্তার সম্প্রসারণের জন্য আলহাজ্ব ট্রাফিক মোড় ও আলোবাগ মোড়ের তেল পাম্পের নিকটের দুটি বটগাছ কেটে দেওয়ার জন্য সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়। আমরা সেই নির্দেশে বটগাছ দুটি কেটে দিচ্ছি।
সড়ক ও জনপথ পাবনা অধিদপ্তরের ওয়ার্ক এসিট্যান্ট মোঃ তাজুল ইসলাম বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী স্যারের নির্দেশে বটগাছ দুটি কাটা হচ্ছে।
ঈশ্বরদীর আলহাজ্ব ট্রাফিক মোড়ের ওষুধের দোকানী আব্দুল হামিদ, কনফেকশনারি দোকানী সেলিম আহমেদ ও চায়ের দোকানী শাহজাহান আলী বলেন ও এলাকাবাসী বলেন, বটগাছ দুটি মোড়কে ছায়া করে রাখতো। প্রচন্ড গরমে বিভিন্ন শ্রেণির পথচারীরা ক্লান্তি দুর করতে বটগাছের নিচে এসে দাড়াত। বাসযাত্রীরা এই বটগাছের নিচে এসে দাড়াত, বিশ্রাম নিত, বাসের জন্য অপেক্ষা করত। কিন্তু রাস্তা সম্প্রসারণের নামে গাছ দুটি কেটে ফেলা হলো। এটা খুবই দুঃখজনক।
এলাকাবাসী আরও জানান, গাছটি যদি না কাটা হত তাহলেই ভালো হত। যেহেতু গাছটি কেটেই ফেলা হয়েছে সেহেতু সরকারের পক্ষ থেকে আলহাজ্ব মোড়ের আশেপাশে আরও গাছ লাগানো হোক অথবা আমরা এলাকাবাসীদের সহযোগিতা করা হোক। প্রধানমন্ত্রী যেখানে বলেছে একটি গাছ কাটা হলে ত্রিশটি গাছ লাগাতে, সেখানে এই অর্ধশতবর্ষী বটগাছের জন্য অন্তত তিনশত গাছ লাগানো উচিৎ।
গাছকাটার বিষয়ে ঈশ্বরদীর বিশিষ্ট পরিবেশবিদ প্রাইমারি কালচার ডিভেলপম্যান্ট সেন্টারের পরিচালক মোশাররফ হোসেন মুসা বলেন, মানুষের জায়গায় সরকারীভাবে গাছ লাগানো হয় না। অপরিকল্পিতভাবে সরকারী জায়গায় গাছ লাগানো হয়। ফলে নগরায়ন, রাস্তা নির্মাণ বা সম্প্রসারণ এবং বৈদ্যুতিক তার টানার জন্য গাছ কেটে ফেলা হয়। এটা পরিবেশের জন্য খুবই হুমকি। এই কারণে পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানোর বিকল্প নেই।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহমেদ বলেন, রাস্তা সম্প্রসারণের কাজে সমস্যা হওয়ায় ঈশ্বরদীর আলহাজ্ব ট্রাফিক মোড় ও আলোবাগ মোড়ের তেলপাম্প সংলগ্ন দুটি বটগাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। বটগাছ দুটি না কাটা হলে রাস্তা সম্প্রসারণ কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।