ঢাকা ০৯:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

ঈশ্বরদীতে ট্রেনের বগিতে আগুন : থানায় মামলা 

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি 
  • আপডেট সময় : ০৬:১৫:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৩
  • / ৪৭৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
ঈশ্বরদী জংশন স্টেশন ইয়ার্ডে ট্রেনের একটি বগিতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাতে মামলাটি হয়। এর আগে স্টেশন প্ল্যাটফর্মের উত্তর পাশে রেল ইয়ার্ড ওয়াশ ফিডে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও রেল পুলিশের সহযোগিতায় আগুন নেভাতে সক্ষম হয়।
ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে জংশন স্টেশনে ট্রেনে আগুন দেওয়ার খবর শুনে তাদের দুটি ইউনিট রওনা দেয়। ইউনিট দুটি স্টেশন ইয়ার্ডের ওয়াশ ফিডে থাকা ট্রেনের বগির ভেতরের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে ঢাকা মেইল-৯৯ আপ ট্রেনের ৫৫৫৬ নম্বর (ছ) কোচের ১১টি সিট পুড়ে গেছে।
এ ছাড়া আগুনে ভেতরে আরও কিছু ক্ষতি হয়েছে। ট্রেনটি ওয়াশ ফিডে থাকায় কোনো যাত্রী ছিল না। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চলা এই ট্রেন পরিষ্কার করার জন্য ওয়াশ ফিড ইয়ার্ডে রাখা হয়েছিল বলে রেল কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়েছে।
ঈশ্বরদী রেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুজ্জামান রুমেল জানান, গতকাল রাত সাড়ে ৮টার দিকে দুর্বৃত্তরা মুখ বাঁধা অবস্থায় রেল ইয়ার্ডে এসে বগির ভেতরে পেট্রোল-জাতীয় দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বিপজ্জনক বাঁশি দিলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
ওসি বলেন, ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্টদের খবর দেওয়া হয়। তবে কারা ওই ট্রেনের বগিতে আগুন দিয়েছে তা স্পষ্ট নয়। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা ট্রেনের বগিতে আগুন দিয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় গতকাল রাতেই ঈশ্বরদী স্টেশন সুপারেনটেন্ড মহিউল ইসলাম বাদী হয়ে নাশকতার মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।
এদিকে ঈশ্বরদী পৌরসভার মেয়র ইছাহক আলী মালিথা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুবীর কুমার দাস, ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) টি এম রাহসিন কবির, ওসি অরবিন্দ সরকারসহ রেল পুলিশ ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে রাত ১০টার দিকে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার শাহ সুফি নূর মোহাম্মদের নেতৃত্বে বিভাগীয় রেল কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
মেয়র ও ইউএনও দেশের সর্ববৃহৎ ঈশ্বরদী জংশন স্টেশন ইয়ার্ডে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সিসি ক্যামেরা না থাকায় পশ্চিমাঞ্চল রেল কর্তৃপক্ষের প্রতি ক্ষোভ এবং অবিলম্বে ইয়ার্ডে সিসি ক্যামেরায় স্থাপনের জন্য রেল কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে বলেন।
উল্লেখ্য, গত ১ নভেম্বর ঈশ্বরদী স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়ার পরপরই বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনে বোমা হামলা হয়। পরদিন ঈশ্বরদী স্টেশন প্ল্যাটফর্মে রেললাইনে ট্রেনের বগির নিচ থেকে একটি ককটেল উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বাখ//আর

নিউজটি শেয়ার করুন

ঈশ্বরদীতে ট্রেনের বগিতে আগুন : থানায় মামলা 

আপডেট সময় : ০৬:১৫:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৩
ঈশ্বরদী জংশন স্টেশন ইয়ার্ডে ট্রেনের একটি বগিতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাতে মামলাটি হয়। এর আগে স্টেশন প্ল্যাটফর্মের উত্তর পাশে রেল ইয়ার্ড ওয়াশ ফিডে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও রেল পুলিশের সহযোগিতায় আগুন নেভাতে সক্ষম হয়।
ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে জংশন স্টেশনে ট্রেনে আগুন দেওয়ার খবর শুনে তাদের দুটি ইউনিট রওনা দেয়। ইউনিট দুটি স্টেশন ইয়ার্ডের ওয়াশ ফিডে থাকা ট্রেনের বগির ভেতরের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে ঢাকা মেইল-৯৯ আপ ট্রেনের ৫৫৫৬ নম্বর (ছ) কোচের ১১টি সিট পুড়ে গেছে।
এ ছাড়া আগুনে ভেতরে আরও কিছু ক্ষতি হয়েছে। ট্রেনটি ওয়াশ ফিডে থাকায় কোনো যাত্রী ছিল না। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চলা এই ট্রেন পরিষ্কার করার জন্য ওয়াশ ফিড ইয়ার্ডে রাখা হয়েছিল বলে রেল কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়েছে।
ঈশ্বরদী রেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুজ্জামান রুমেল জানান, গতকাল রাত সাড়ে ৮টার দিকে দুর্বৃত্তরা মুখ বাঁধা অবস্থায় রেল ইয়ার্ডে এসে বগির ভেতরে পেট্রোল-জাতীয় দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বিপজ্জনক বাঁশি দিলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
ওসি বলেন, ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্টদের খবর দেওয়া হয়। তবে কারা ওই ট্রেনের বগিতে আগুন দিয়েছে তা স্পষ্ট নয়। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা ট্রেনের বগিতে আগুন দিয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় গতকাল রাতেই ঈশ্বরদী স্টেশন সুপারেনটেন্ড মহিউল ইসলাম বাদী হয়ে নাশকতার মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত এ ঘটনায় কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।
এদিকে ঈশ্বরদী পৌরসভার মেয়র ইছাহক আলী মালিথা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুবীর কুমার দাস, ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) টি এম রাহসিন কবির, ওসি অরবিন্দ সরকারসহ রেল পুলিশ ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে রাত ১০টার দিকে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার শাহ সুফি নূর মোহাম্মদের নেতৃত্বে বিভাগীয় রেল কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
মেয়র ও ইউএনও দেশের সর্ববৃহৎ ঈশ্বরদী জংশন স্টেশন ইয়ার্ডে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সিসি ক্যামেরা না থাকায় পশ্চিমাঞ্চল রেল কর্তৃপক্ষের প্রতি ক্ষোভ এবং অবিলম্বে ইয়ার্ডে সিসি ক্যামেরায় স্থাপনের জন্য রেল কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে বলেন।
উল্লেখ্য, গত ১ নভেম্বর ঈশ্বরদী স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়ার পরপরই বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনে বোমা হামলা হয়। পরদিন ঈশ্বরদী স্টেশন প্ল্যাটফর্মে রেললাইনে ট্রেনের বগির নিচ থেকে একটি ককটেল উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বাখ//আর