ঢাকা ১০:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

ঈদ বাজার ভারতীয় জামদানির দখলে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৩:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ এপ্রিল ২০২৩
  • / ৪৬৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

// শফিউল আযম, বিশেষ প্রতিনিধি //

বাঙালি নারীদের একান্ত সঙ্গী শাড়ি। গুণগতমান ও নজরকাড়া সৌন্দর্য্যে সব বয়সী নারীদের কাছে জামদানি শাড়ি জনপ্রিয়। উৎসব-পার্বনে এর চাহিদা বেড়ে যায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে দেশীয় বাজারে দেশি জামদানি শাড়ির চেয়ে চাহিদা বেশি ভারতীয় জামদানির। কারণ কম দামে একই ডিজাইনের শাড়ি পাওয়ায় ভারতীয় জামদানির চাহিদা বেড়েছে। পাবনা-সিরাজগঞ্জের কাপড়ের দোকানগুলোতে যত জামদানি শাড়ি বিক্রি হচ্ছে তার ৩৫ ভাগ দেশি আর বাঁকি ৬৫ ভাগই ভারতীয় জামদানি শাড়ির দখলে।

পাবনার কাশিনাথপুর ও সিরাগঞ্জের শাহজাদপুর সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, জামদানি শাড়িতে বাহারি রং, অপূর্ব নকশা আর সুক্ষ বুননে রয়েছে ভিন্নতা। নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে প্রতিটি শাড়ি যেন সেরা। সৌন্দর্য্যে একটি অন্যটিকে ছাড়িয়ে গেছে। আভিজাত্য, ঐতিহ্য ও শ্রেষ্ঠত্বের দিক থেকে এ দেশের জামদানির তুলনা আর কিছুর সাথে হয় না বললেই চলে। ভিন্ন ভিন্ন নকশার শাড়ির রয়েছে সুন্দর সব নাম। দোকানিরা সাজিয়ে রেখেছেন নানা ভাবে। পাঁচ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকার জামদানি শাড়ি রয়েছে। দুবলাজাল, সাবুরগা, শাপলা ফুল, বলিহার, ঝুমকা, কল্কাপাড়, কচুপাতা, শবনম, বুটিদারসহ আরও বিভিন্ন নামের শাড়ি রয়েছে।

পাবনা ক্লথ ষ্টোরের মালিক মোহাম্মদ বলেন, বর্তমানে দেশের বাজারে জামদানির চাহিদা কমেছে। উৎপাদন খরচ বেশি, মজুরিতে না পোষানোয় কারিগররা কাজে ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অনেক তাঁত। দেশি শাড়ির চেয়ে ভারতীয় জামদানির দাম কম। ব্যবসায়ীরা তাই ভারতীয় জামদানি আমদানি বাড়িয়ে দিয়েছে। দোকানে যত শাড়ি বিক্রি হচ্ছে তার ৩৫ ভাগ দেশি শাড়ি, বাকি ৬৫ ভাগ ভারতীয় শাড়ির।

পশ্চিমবাংলার আমদানি-রফতানিকারক অজিত দত্ত জানান, ভারতে জামদানি শাড়ি মেশিনে তৈরি হয়। তারা একদিনে দুই-তিনটি শাড়ি তৈরি করছে। উৎপাদন খরচ পড়ছে কম। সে জন্য ভারতীয় শাড়ির সাথে প্রতিযোগীতায় টিকতে পারছেনা বাংলাদেশের হাতে তৈরি উন্নতমানের জামদানি। তিনি বলেন, বাংলাদেশে তৈরি জামদানি মানের দিক থেকে যেমন সেরা দামেও একটু বেশি। তবুও পশ্চিম বাংলার উচ্চবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারের মহিলাদের পছন্দ বাংলাদেশের জামদানি। এছাড়া বাংলাদেশের সিল্ক জামদানী, হাফ সিল্ক জামদানি, সুতি জামদানী, কাতান, সুতি কাতান, রাজশাহী সিল্ক, বেনারশী, কটন শাড়ি টেকসই ও উন্নতমানের হওয়ায় ব্যাপক চাহিদা রয়েছে ভারতে।

আতাইকুলাহাটে ভারতীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, ভারতের পশ্চিমবাংলার উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মেদিনীপুর, হুগলী, বর্ধমান, নদীয়া, মূর্শীদাবাদ, মালদহ, জলপাইগুঁড়ি, পশ্চিমদিনাজপুর, উত্তরদিনাজপুর, দক্ষিণদিনাজপুর, কুচবিহার, হাওড়া ও হুগলীসহ বিভিন্ন জেলার ছোট-বড় নামিদামী শপিংমল ও বিপণী বিতানগুলোতে বাংলাদেশে তৈরি বিভিন্ন ব্রান্ডের শাড়ি বিক্রি হয়। রমজানের ঈদ ও বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সেখানে বাংলাদেশি শাড়ির বাজার জমে উঠতে শুরু করেছে।

টাঙ্গাইল জেলার পথরাইলের জামদানি কারখানার মালিক মোঃ মোসলেহ উদ্দিন মোবাইল ফোনে জানান, আমাদের দেশে তাঁত কারখানায় একটি জামদানি শাড়ি হাতে তৈরি করতে সময় লাগে কমপক্ষে সাত দিন। ফলে উৎপাদন খরচ বেশি পড়ে। মানভেদে একেকটি শাড়ির দাম পড়ে পাঁচ হাজার থেকে এক লাখ টাকা। আর দেখতে প্রায় একই রকম ভারতের শাড়ির দাম মাত্র ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। কখনো এর বেশি হয় না। সেজন্য ক্রেতারা ভারতের জামদানি কিনতে বেশি ঝুঁকছেন। কিন্তু ক্রেতারা মানটা দেখছেন না। তারা মনে করে এটাও দেশি শাড়ির মতো সুন্দর হবে।

পাথরাইলের জামদানির কারিগর হাসমত উল্লা বলেন, জামদানি শাড়ি তৈরিতে সাধারণত ২৬, ৮০ ও ৮৪ কাউন্টের সুতা ব্যবহার করা হয়। জামদানি টাংগাইলসহ কয়েকটি এলাকায় তৈরি করা হয়। তবে ঢাকাকেই জামদানির আদি জন্মস্থান বলে গণ্য করা হয়। অপরুপ নকশা ফুঁটিয়ে তোলা হয় জামদানি শাড়িতে। জামদানি শাড়ি বাঙালি নারীদের অতি পরিচিত। মসলিনের উপর নকশা করে জামদানি কাপড় তৈরি করা হয়। জামদানি দিয়ে নকশি ওড়না, থ্রিপিস, কুর্তা, পাগড়ি প্রভৃতি তৈরি করা হয়। এছাড়া জামদানি দিয়ে নকশাওয়ালা শেরওয়ানি তৈরি করা হয় বলে জানা গেছে।
জামদানি শাড়ি রং দিয়ে নকশা করা হয়না। তাঁতীদের কল্পনাকে সুনিপুনভাবে ফুঁটিয়ে তোলা হয়। নকশার কাজটি যেহেতু তাঁতীরাই করে, সেখানে দেশের প্রকৃতির কথা থাকাটাই স্বাভাবিক। এজন্য জামদানির নকশায় দেশিও ফুল, লতা-পাতার চিত্রই বেশি প্রধান্য পায়। তবে জ্যামেতিক নকশা অনুযায়ী জামদানি নানা নামে পরিচিতি পায়।

জামদানি শাড়িতে বুননের মাধ্যমেই নকশা ফুঁটিয়ে তোলা হয়। নকশা অনুযায়ী জামদানির নানা নাম হয়ে থাকে। যেমন- আঙ্গুরলতা, তেরছা, ময়ুরপাখা, কলমিলতা, বলিহার, জবাফুল ইত্যাদি। জামদানি কারখানার মালিক হাসমত উল্লা জানান, প্রাথমিকভাবে জামদানি শাড়ির উপাদান অনুযায়ী এটি তিন প্রকার। হাফ সিল্ক জামদানি- যার সুতাগুলো হয় কটন আর লম্বালম্বি সুতাগুলো হয় রেশমের। ফুল কটন জামদানি- যা সম্পূর্ণ কটন (তুলা) সুতায় তৈরি। ফুল সিল্ক জামদানি-যা সম্পূর্ণ রেশম সুতায় তৈরি।

পাবনা সদর, কাশিনাথপুর, সিরাজগঞ্জ ও শাহজাদুরের কাপড় বিক্রেতারা বলেন, দেশি জামদানির সাথে কোন শাড়ির তুলনা হয় না। অনেক ক্রেতার বাজেট কম থাকায় সে ভারতীয় জামদানি কিনছে। খুব কম মানুষ দেশি জামদানি ক্রয় করে। তিন হাজার থেকে চার হাজার টাকার মধ্যে ভারতীয় জামদানি পাওয়া যায়। যারা অরিজিনাল জামদানি চেনেন তারা কখনো আর্টিফিশিয়াল কেনেন না। সারা বিশ্বের মধ্যে শুধু বাংলাদেশেই অরিজিনাল জামদানি তৈরি হয়। ভারত আমাদের দেশের শাড়ি নকল করে মেশিনে আর্টিফিশিয়াল জামদানি তৈরি করছে।

বা/খ: এসআর।

নিউজটি শেয়ার করুন

ঈদ বাজার ভারতীয় জামদানির দখলে

আপডেট সময় : ০৯:৩৩:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ এপ্রিল ২০২৩

// শফিউল আযম, বিশেষ প্রতিনিধি //

বাঙালি নারীদের একান্ত সঙ্গী শাড়ি। গুণগতমান ও নজরকাড়া সৌন্দর্য্যে সব বয়সী নারীদের কাছে জামদানি শাড়ি জনপ্রিয়। উৎসব-পার্বনে এর চাহিদা বেড়ে যায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে দেশীয় বাজারে দেশি জামদানি শাড়ির চেয়ে চাহিদা বেশি ভারতীয় জামদানির। কারণ কম দামে একই ডিজাইনের শাড়ি পাওয়ায় ভারতীয় জামদানির চাহিদা বেড়েছে। পাবনা-সিরাজগঞ্জের কাপড়ের দোকানগুলোতে যত জামদানি শাড়ি বিক্রি হচ্ছে তার ৩৫ ভাগ দেশি আর বাঁকি ৬৫ ভাগই ভারতীয় জামদানি শাড়ির দখলে।

পাবনার কাশিনাথপুর ও সিরাগঞ্জের শাহজাদপুর সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, জামদানি শাড়িতে বাহারি রং, অপূর্ব নকশা আর সুক্ষ বুননে রয়েছে ভিন্নতা। নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে প্রতিটি শাড়ি যেন সেরা। সৌন্দর্য্যে একটি অন্যটিকে ছাড়িয়ে গেছে। আভিজাত্য, ঐতিহ্য ও শ্রেষ্ঠত্বের দিক থেকে এ দেশের জামদানির তুলনা আর কিছুর সাথে হয় না বললেই চলে। ভিন্ন ভিন্ন নকশার শাড়ির রয়েছে সুন্দর সব নাম। দোকানিরা সাজিয়ে রেখেছেন নানা ভাবে। পাঁচ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকার জামদানি শাড়ি রয়েছে। দুবলাজাল, সাবুরগা, শাপলা ফুল, বলিহার, ঝুমকা, কল্কাপাড়, কচুপাতা, শবনম, বুটিদারসহ আরও বিভিন্ন নামের শাড়ি রয়েছে।

পাবনা ক্লথ ষ্টোরের মালিক মোহাম্মদ বলেন, বর্তমানে দেশের বাজারে জামদানির চাহিদা কমেছে। উৎপাদন খরচ বেশি, মজুরিতে না পোষানোয় কারিগররা কাজে ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অনেক তাঁত। দেশি শাড়ির চেয়ে ভারতীয় জামদানির দাম কম। ব্যবসায়ীরা তাই ভারতীয় জামদানি আমদানি বাড়িয়ে দিয়েছে। দোকানে যত শাড়ি বিক্রি হচ্ছে তার ৩৫ ভাগ দেশি শাড়ি, বাকি ৬৫ ভাগ ভারতীয় শাড়ির।

পশ্চিমবাংলার আমদানি-রফতানিকারক অজিত দত্ত জানান, ভারতে জামদানি শাড়ি মেশিনে তৈরি হয়। তারা একদিনে দুই-তিনটি শাড়ি তৈরি করছে। উৎপাদন খরচ পড়ছে কম। সে জন্য ভারতীয় শাড়ির সাথে প্রতিযোগীতায় টিকতে পারছেনা বাংলাদেশের হাতে তৈরি উন্নতমানের জামদানি। তিনি বলেন, বাংলাদেশে তৈরি জামদানি মানের দিক থেকে যেমন সেরা দামেও একটু বেশি। তবুও পশ্চিম বাংলার উচ্চবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারের মহিলাদের পছন্দ বাংলাদেশের জামদানি। এছাড়া বাংলাদেশের সিল্ক জামদানী, হাফ সিল্ক জামদানি, সুতি জামদানী, কাতান, সুতি কাতান, রাজশাহী সিল্ক, বেনারশী, কটন শাড়ি টেকসই ও উন্নতমানের হওয়ায় ব্যাপক চাহিদা রয়েছে ভারতে।

আতাইকুলাহাটে ভারতীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, ভারতের পশ্চিমবাংলার উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মেদিনীপুর, হুগলী, বর্ধমান, নদীয়া, মূর্শীদাবাদ, মালদহ, জলপাইগুঁড়ি, পশ্চিমদিনাজপুর, উত্তরদিনাজপুর, দক্ষিণদিনাজপুর, কুচবিহার, হাওড়া ও হুগলীসহ বিভিন্ন জেলার ছোট-বড় নামিদামী শপিংমল ও বিপণী বিতানগুলোতে বাংলাদেশে তৈরি বিভিন্ন ব্রান্ডের শাড়ি বিক্রি হয়। রমজানের ঈদ ও বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সেখানে বাংলাদেশি শাড়ির বাজার জমে উঠতে শুরু করেছে।

টাঙ্গাইল জেলার পথরাইলের জামদানি কারখানার মালিক মোঃ মোসলেহ উদ্দিন মোবাইল ফোনে জানান, আমাদের দেশে তাঁত কারখানায় একটি জামদানি শাড়ি হাতে তৈরি করতে সময় লাগে কমপক্ষে সাত দিন। ফলে উৎপাদন খরচ বেশি পড়ে। মানভেদে একেকটি শাড়ির দাম পড়ে পাঁচ হাজার থেকে এক লাখ টাকা। আর দেখতে প্রায় একই রকম ভারতের শাড়ির দাম মাত্র ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। কখনো এর বেশি হয় না। সেজন্য ক্রেতারা ভারতের জামদানি কিনতে বেশি ঝুঁকছেন। কিন্তু ক্রেতারা মানটা দেখছেন না। তারা মনে করে এটাও দেশি শাড়ির মতো সুন্দর হবে।

পাথরাইলের জামদানির কারিগর হাসমত উল্লা বলেন, জামদানি শাড়ি তৈরিতে সাধারণত ২৬, ৮০ ও ৮৪ কাউন্টের সুতা ব্যবহার করা হয়। জামদানি টাংগাইলসহ কয়েকটি এলাকায় তৈরি করা হয়। তবে ঢাকাকেই জামদানির আদি জন্মস্থান বলে গণ্য করা হয়। অপরুপ নকশা ফুঁটিয়ে তোলা হয় জামদানি শাড়িতে। জামদানি শাড়ি বাঙালি নারীদের অতি পরিচিত। মসলিনের উপর নকশা করে জামদানি কাপড় তৈরি করা হয়। জামদানি দিয়ে নকশি ওড়না, থ্রিপিস, কুর্তা, পাগড়ি প্রভৃতি তৈরি করা হয়। এছাড়া জামদানি দিয়ে নকশাওয়ালা শেরওয়ানি তৈরি করা হয় বলে জানা গেছে।
জামদানি শাড়ি রং দিয়ে নকশা করা হয়না। তাঁতীদের কল্পনাকে সুনিপুনভাবে ফুঁটিয়ে তোলা হয়। নকশার কাজটি যেহেতু তাঁতীরাই করে, সেখানে দেশের প্রকৃতির কথা থাকাটাই স্বাভাবিক। এজন্য জামদানির নকশায় দেশিও ফুল, লতা-পাতার চিত্রই বেশি প্রধান্য পায়। তবে জ্যামেতিক নকশা অনুযায়ী জামদানি নানা নামে পরিচিতি পায়।

জামদানি শাড়িতে বুননের মাধ্যমেই নকশা ফুঁটিয়ে তোলা হয়। নকশা অনুযায়ী জামদানির নানা নাম হয়ে থাকে। যেমন- আঙ্গুরলতা, তেরছা, ময়ুরপাখা, কলমিলতা, বলিহার, জবাফুল ইত্যাদি। জামদানি কারখানার মালিক হাসমত উল্লা জানান, প্রাথমিকভাবে জামদানি শাড়ির উপাদান অনুযায়ী এটি তিন প্রকার। হাফ সিল্ক জামদানি- যার সুতাগুলো হয় কটন আর লম্বালম্বি সুতাগুলো হয় রেশমের। ফুল কটন জামদানি- যা সম্পূর্ণ কটন (তুলা) সুতায় তৈরি। ফুল সিল্ক জামদানি-যা সম্পূর্ণ রেশম সুতায় তৈরি।

পাবনা সদর, কাশিনাথপুর, সিরাজগঞ্জ ও শাহজাদুরের কাপড় বিক্রেতারা বলেন, দেশি জামদানির সাথে কোন শাড়ির তুলনা হয় না। অনেক ক্রেতার বাজেট কম থাকায় সে ভারতীয় জামদানি কিনছে। খুব কম মানুষ দেশি জামদানি ক্রয় করে। তিন হাজার থেকে চার হাজার টাকার মধ্যে ভারতীয় জামদানি পাওয়া যায়। যারা অরিজিনাল জামদানি চেনেন তারা কখনো আর্টিফিশিয়াল কেনেন না। সারা বিশ্বের মধ্যে শুধু বাংলাদেশেই অরিজিনাল জামদানি তৈরি হয়। ভারত আমাদের দেশের শাড়ি নকল করে মেশিনে আর্টিফিশিয়াল জামদানি তৈরি করছে।

বা/খ: এসআর।