ঢাকা ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

আ. লীগের প্রতিটি নেতাকর্মী জিয়ার নির্যাতনের শিকার : প্রধানমন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০৬:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২২
  • / ৪৫২ বার পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মী জিয়াউর রহমানের অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে একাদশ জাতীয় সংসদের ২০তম অধিবেশনে এবং সংসদ সদস্য শেখ এ্যানী রহমান, ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথসহ সাবেক একাধিক সংসদ সদস্য ও বিশিষ্টজনের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাবের আলোচনায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমানের অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার আমাদের আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মী। জাপার সাবেক চেয়ারম্যান জেনারেল এরশাদ, সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ, আনোয়ার হোসেন মঞ্জুসহ জাপা নেতাদের কারাগারে ন্যূনতম ডিভিশন না দিয়ে সাধারণ কয়েদিদের সঙ্গে রাখার মতো বেগম জিয়ার অত্যাচার-নির্যাতনের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

তিনি বলেন, সাজেদা চৌধুরী বা মতিয়া চৌধুরীকে গ্রেফতার করে জিয়াউর রহমান যেমন ডিভিশন না দিয়ে ফেলে রেখেছিল, খালেদা জিয়াও জাপা নেতাদের সঙ্গে একই কাজ করেছিল। অন্যদিকে তার সরকার মানবিক কারণে এবং তার নির্বাহী ক্ষমতাবলে সাজা স্থগিত রেখে বেগম খালেদা জিয়াকে বাসায় থেকে চিকিৎসা করার সুযোগ করে দিয়েছে। অর্থাৎ একটি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই এটা করা হয়েছে, যেহেতু তিনি একজন বয়োবৃদ্ধ মানুষ।

শেখ হাসিনা বলেন, অন্যদিকে বিএনপি সরকার সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান জামালউদ্দিনকে একটি ঘড়ি চুরির মামলায় কোনো ডিভিশন না দিয়ে দুটি কম্বল দিয়ে সাধারণ কয়েদীদের সঙ্গে ফেলে রেখেছিল। এইভাবে মানুষকে তারা অত্যাচার করেছে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর মৃত্যুতে আনা শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, তিনি (সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী) চলে যাওয়াতে শুধু আওয়ামী লীগ নয়, আমাদের দেশের ক্ষতি, জাতির ক্ষতি এমনকি আমারও (ক্ষতি) হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি শুধু সংসদ উপনেতাই নন, তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা, সমাজ সেবক, সংস্কৃতিমনা ব্যক্তিত্ব ছিলেন তাকে হারিয়ে আমাদের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একজন সত্যিকার নিবেদিত প্রাণ ব্যক্তিকে হারাল। আমি তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাই।

রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর জন্য ব্রিটেনের রানী প্রয়াত দ্বিতীয় এলিজাবেথের আলাদা আন্তরিকতা ছিল। কমনওয়েলথ সম্মেলনে গিয়ে তার সঙ্গে কথা হতো।

তিনি বলেন, উনি বলতেন আমাদের কমনওয়েলথ দেশগুলোতে নারী নেতৃত্ব খুব কম ছিল। এটা ওনার একটা আফসোস ছিল। পরিবেশ নিয়েও সচেতন ছিলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় সদ্য প্রয়াত সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য শেখ এ্যানি রহমানের সম্পর্কেও স্মৃতিচারণ করেন।

চলতি সংসদের কোনো সংসদ সদস্য মারা গেলে সংসদে শোকপ্রস্তাবের ওপর আলোচনা করে রেওয়াজ অনুযায়ী সংসদের বৈঠক মুলতবি করা হয়। স্পিকার ড. শিরীর শারমিন চৌধুরী পরে অধিবেশন মূলতবি করেন।

প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন সরকারি দলের আমির হোসেন আমু, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, বেগম মতিয়া চৌধুরী, মুহাম্মদ ফারুক খান, শাজাহান খান, আসম ফিরোজ, শ ম রেজাউল করিম, ওয়াসিকা আয়শা খান, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদ উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের, জাপার কাজী ফিরোজ রশীদ, ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আ. লীগের প্রতিটি নেতাকর্মী জিয়ার নির্যাতনের শিকার : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১১:০৬:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মী জিয়াউর রহমানের অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে একাদশ জাতীয় সংসদের ২০তম অধিবেশনে এবং সংসদ সদস্য শেখ এ্যানী রহমান, ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথসহ সাবেক একাধিক সংসদ সদস্য ও বিশিষ্টজনের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাবের আলোচনায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমানের অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার আমাদের আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মী। জাপার সাবেক চেয়ারম্যান জেনারেল এরশাদ, সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ, আনোয়ার হোসেন মঞ্জুসহ জাপা নেতাদের কারাগারে ন্যূনতম ডিভিশন না দিয়ে সাধারণ কয়েদিদের সঙ্গে রাখার মতো বেগম জিয়ার অত্যাচার-নির্যাতনের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

তিনি বলেন, সাজেদা চৌধুরী বা মতিয়া চৌধুরীকে গ্রেফতার করে জিয়াউর রহমান যেমন ডিভিশন না দিয়ে ফেলে রেখেছিল, খালেদা জিয়াও জাপা নেতাদের সঙ্গে একই কাজ করেছিল। অন্যদিকে তার সরকার মানবিক কারণে এবং তার নির্বাহী ক্ষমতাবলে সাজা স্থগিত রেখে বেগম খালেদা জিয়াকে বাসায় থেকে চিকিৎসা করার সুযোগ করে দিয়েছে। অর্থাৎ একটি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই এটা করা হয়েছে, যেহেতু তিনি একজন বয়োবৃদ্ধ মানুষ।

শেখ হাসিনা বলেন, অন্যদিকে বিএনপি সরকার সাবেক বিমান বাহিনী প্রধান জামালউদ্দিনকে একটি ঘড়ি চুরির মামলায় কোনো ডিভিশন না দিয়ে দুটি কম্বল দিয়ে সাধারণ কয়েদীদের সঙ্গে ফেলে রেখেছিল। এইভাবে মানুষকে তারা অত্যাচার করেছে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর মৃত্যুতে আনা শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, তিনি (সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী) চলে যাওয়াতে শুধু আওয়ামী লীগ নয়, আমাদের দেশের ক্ষতি, জাতির ক্ষতি এমনকি আমারও (ক্ষতি) হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি শুধু সংসদ উপনেতাই নন, তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা, সমাজ সেবক, সংস্কৃতিমনা ব্যক্তিত্ব ছিলেন তাকে হারিয়ে আমাদের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একজন সত্যিকার নিবেদিত প্রাণ ব্যক্তিকে হারাল। আমি তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাই।

রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর জন্য ব্রিটেনের রানী প্রয়াত দ্বিতীয় এলিজাবেথের আলাদা আন্তরিকতা ছিল। কমনওয়েলথ সম্মেলনে গিয়ে তার সঙ্গে কথা হতো।

তিনি বলেন, উনি বলতেন আমাদের কমনওয়েলথ দেশগুলোতে নারী নেতৃত্ব খুব কম ছিল। এটা ওনার একটা আফসোস ছিল। পরিবেশ নিয়েও সচেতন ছিলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় সদ্য প্রয়াত সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য শেখ এ্যানি রহমানের সম্পর্কেও স্মৃতিচারণ করেন।

চলতি সংসদের কোনো সংসদ সদস্য মারা গেলে সংসদে শোকপ্রস্তাবের ওপর আলোচনা করে রেওয়াজ অনুযায়ী সংসদের বৈঠক মুলতবি করা হয়। স্পিকার ড. শিরীর শারমিন চৌধুরী পরে অধিবেশন মূলতবি করেন।

প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও আলোচনায় অংশ নেন সরকারি দলের আমির হোসেন আমু, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, বেগম মতিয়া চৌধুরী, মুহাম্মদ ফারুক খান, শাজাহান খান, আসম ফিরোজ, শ ম রেজাউল করিম, ওয়াসিকা আয়শা খান, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদ উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের, জাপার কাজী ফিরোজ রশীদ, ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা।