ঢাকা ০৮:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

আবারো জ্বালানি তেলের দাম বাড়লো পাকিস্তানে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২৯:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
  • / ৪৭০ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

আবারো পাকিস্তানে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লো। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ঋণ পেতে ফেডারেল সরকার নতুন করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। আর নতুন করে মূল্য বৃদ্ধির পর দেশটিতে আকাশ ছুঁয়েছে অতি প্রয়োজনীয় এসব জ্বালানির দাম।

বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় রাতে জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য তালিকা ঘোষণা করা হয়।

অর্থনৈতিক দুরাবস্থা কাটাতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে ৬ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা পাওয়ার চেষ্টা করছে পাক সরকার। তবে আইএমএফ শর্ত দিয়েছে, ঋণ পেতে হলে বৃদ্ধি করতে হবে জ্বালানির দাম। আর সেই শর্ত অনুযায়ী, নতুন করে মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, নতুন করে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম বাড়ানো হয়েছে ২২ দশমিক ২০ রুপি। এতে এ জ্বালানির নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২৭২ রুপি।

হাই-স্পিড ডিজেলের দাম ১৭ দশমিক ২০ রুপি বাড়িয়ে ২৮০ রুপি করা হয়েছে। কেরোসিনের দাম প্রতি লিটার ১২ দশমিক ৯০ রুপি বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২ দশমিক ৭৩ রুপি। অপরদিকে লাইট ডিজেলের দাম ৯ দশমিক ৬৮ রুপি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯৬ রুপিতে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক আইএমএফ-এর পাকিস্তানকে ঋণ দেওয়ার অন্যতম শর্তগুলোর মধ্যে একটি ছিল পেট্রোলিয়াম পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি। এরই মধ্যে দেশটিতে কয়েক দফা জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে।

তবে এ মূল্য বৃদ্ধির কারণে পাকিস্তানে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া ১৭০ বিলিয়ন রুপি কর আদায়ে যে ‘মিনি বাজেট’ ঘোষণা করা হয়েছে সেটিরও বিরূপ প্রভাব পড়বে।

ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমনিতেই সব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম সম্প্রতি বেড়েছে এবং সরকারের সিদ্ধান্তের ফলে তা আরও বাড়বে। তার ওপর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এখনো ভোজ্য তেল আমদানি করার জন্য লেটার অফ ক্রেডিট(এলসি) দিচ্ছে না। এলসি পেলে তেল আনতে ৪৫ থেকে ৬০ দিন লাগে। ফলে রমজানের সময় ঘি ও ভোজ্য তেলের চাহিদা মেটানো সম্ভব নাও হতে পারে।

বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) মিনি বাজেটে ভোজ্য তেল, বিস্কিট, জ্যাম, জেলি, টকোলেট, প্রসাধনী, কফি, ক্রিম, শ্যাম্পু, নুডলস, খেলনা, হেয়ার জেল, হেয়ার রিমুভিং ক্রিম, শেভিং জেল, ক্রিম, কম্পিউটার, ল্য়াপটপ, ইলেকট্রনিক জিনিসসহ একগুচ্ছ জিনিসের উপর জিএসটির পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে এই সব জিনিসের দাম বাড়বে।

তার উপর পেট্রোল, ডিজেল, গ্যাসের দাম বাড়ানোয় সব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও বেড়ে যাবে।

মুডিস অ্যানালাইটিকসের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ক্যাটিরিনা এল জানিয়েছেন, পাকিস্তানে ২০২৩ সালের প্রথম ছয় মাসে মুদ্রাস্ফীতি গড়ে ৩৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এরপর এটি কমতে পারে। এছাড়া শুধুমাত্র আইএমএফের ঋণ দিয়ে ইসলামাবাদের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভালো হবে এমনটিও মনে করছেন না তিনি।

এদিকে মিনি বাজেটের মাধ্যমে বর্তমান ক্ষমতাসীন শেহবাজ সরকার বাজেটের ঘাটতি এবং কর আদায়ের পরিধি বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা করছে।

মিনি বাজেটের অংশ হিসেবে পাকিস্তানের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এফবিআর) একটি এসআরও জারি করে সেলস ট্যাক্স (সিএসটি) ১৮ শতাংশে উন্নীত করেছে। এর মাধ্যমে ১১৫ বিলিয়ন রুপি কর আদায় করা হবে। আর অন্যান্য খাত থেকে আদায় করা হবে আরও ৫৫ বিলিয়ন রুপি। সূত্র: জিও নিউজ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আবারো জ্বালানি তেলের দাম বাড়লো পাকিস্তানে

আপডেট সময় : ০২:২৯:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

আবারো পাকিস্তানে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লো। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ঋণ পেতে ফেডারেল সরকার নতুন করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। আর নতুন করে মূল্য বৃদ্ধির পর দেশটিতে আকাশ ছুঁয়েছে অতি প্রয়োজনীয় এসব জ্বালানির দাম।

বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় রাতে জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য তালিকা ঘোষণা করা হয়।

অর্থনৈতিক দুরাবস্থা কাটাতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে ৬ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা পাওয়ার চেষ্টা করছে পাক সরকার। তবে আইএমএফ শর্ত দিয়েছে, ঋণ পেতে হলে বৃদ্ধি করতে হবে জ্বালানির দাম। আর সেই শর্ত অনুযায়ী, নতুন করে মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, নতুন করে প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম বাড়ানো হয়েছে ২২ দশমিক ২০ রুপি। এতে এ জ্বালানির নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২৭২ রুপি।

হাই-স্পিড ডিজেলের দাম ১৭ দশমিক ২০ রুপি বাড়িয়ে ২৮০ রুপি করা হয়েছে। কেরোসিনের দাম প্রতি লিটার ১২ দশমিক ৯০ রুপি বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২ দশমিক ৭৩ রুপি। অপরদিকে লাইট ডিজেলের দাম ৯ দশমিক ৬৮ রুপি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯৬ রুপিতে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক আইএমএফ-এর পাকিস্তানকে ঋণ দেওয়ার অন্যতম শর্তগুলোর মধ্যে একটি ছিল পেট্রোলিয়াম পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি। এরই মধ্যে দেশটিতে কয়েক দফা জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে।

তবে এ মূল্য বৃদ্ধির কারণে পাকিস্তানে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া ১৭০ বিলিয়ন রুপি কর আদায়ে যে ‘মিনি বাজেট’ ঘোষণা করা হয়েছে সেটিরও বিরূপ প্রভাব পড়বে।

ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমনিতেই সব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম সম্প্রতি বেড়েছে এবং সরকারের সিদ্ধান্তের ফলে তা আরও বাড়বে। তার ওপর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এখনো ভোজ্য তেল আমদানি করার জন্য লেটার অফ ক্রেডিট(এলসি) দিচ্ছে না। এলসি পেলে তেল আনতে ৪৫ থেকে ৬০ দিন লাগে। ফলে রমজানের সময় ঘি ও ভোজ্য তেলের চাহিদা মেটানো সম্ভব নাও হতে পারে।

বুধবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) মিনি বাজেটে ভোজ্য তেল, বিস্কিট, জ্যাম, জেলি, টকোলেট, প্রসাধনী, কফি, ক্রিম, শ্যাম্পু, নুডলস, খেলনা, হেয়ার জেল, হেয়ার রিমুভিং ক্রিম, শেভিং জেল, ক্রিম, কম্পিউটার, ল্য়াপটপ, ইলেকট্রনিক জিনিসসহ একগুচ্ছ জিনিসের উপর জিএসটির পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে এই সব জিনিসের দাম বাড়বে।

তার উপর পেট্রোল, ডিজেল, গ্যাসের দাম বাড়ানোয় সব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও বেড়ে যাবে।

মুডিস অ্যানালাইটিকসের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ক্যাটিরিনা এল জানিয়েছেন, পাকিস্তানে ২০২৩ সালের প্রথম ছয় মাসে মুদ্রাস্ফীতি গড়ে ৩৩ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। এরপর এটি কমতে পারে। এছাড়া শুধুমাত্র আইএমএফের ঋণ দিয়ে ইসলামাবাদের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভালো হবে এমনটিও মনে করছেন না তিনি।

এদিকে মিনি বাজেটের মাধ্যমে বর্তমান ক্ষমতাসীন শেহবাজ সরকার বাজেটের ঘাটতি এবং কর আদায়ের পরিধি বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা করছে।

মিনি বাজেটের অংশ হিসেবে পাকিস্তানের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এফবিআর) একটি এসআরও জারি করে সেলস ট্যাক্স (সিএসটি) ১৮ শতাংশে উন্নীত করেছে। এর মাধ্যমে ১১৫ বিলিয়ন রুপি কর আদায় করা হবে। আর অন্যান্য খাত থেকে আদায় করা হবে আরও ৫৫ বিলিয়ন রুপি। সূত্র: জিও নিউজ।