ঢাকা ০৪:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪, ৭ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

আপনাদের পাশে আছি, পাশে থাকব: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:০৪:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪
  • / ৪২৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ক্ষমতায় আসার পর দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আপনাদের পাশে আছি, আপনাদের পাশে থাকব। ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের সহায়তা করব।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি সরকারি মোজাহার বিশ্বাস কলেজ মাঠে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোয় দলীয় নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তাদের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ অঞ্চলের যত বাঁধের ক্ষতি হয়েছে সেগুলো পুনর্নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি। যত মানুষের ঘর ভেঙে গিয়েছে ক্ষতি হয়েছে সেগুলো সব আমি করে দেব। ক্ষতিগ্রস্ত সবার হিসাব করা হচ্ছে, আজ বিকেলে সবাইকে নিয়ে বসব।’

শেখ হাসিনা বলেন, আজ ধারাবাহিকভাবে গণতন্ত্র আছে বলেই দুযোগ-দুর্বিপাকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি। মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নতি হয়। দেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতি আপনারা নিজেরাই দেখতে পাচ্ছেন। রাস্তাঘাট, স্কুল, কলেজ করে দিয়ে আপনাদের যোগাযোগের ব্যবস্থা… বিদ্যুতের ব্যবস্থা সব করে দিয়েছি।

তিনি বলেন, ভেঙে যাওয়া বাঁধ ইতোমধ্যেই পুনঃনির্মাণ শুরু করে দিয়েছি, যাতে বন্যার আগেই নির্মাণ কাজ শেষ হয়। উপকূলে দুর্যোগ সহনীয়নীয় ঘর তৈরি করে দেয়া হয়েছে। যেখানে যেখানে আপনাদের ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে সেটুকুও নতুন করে তৈরি তৈরি করে দেবো, আমার ওপর আস্থা রাখুন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দল ও সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকবে। সব ধরনের সহযোগিতা দেবে সরকার। অতীতে এমন দুর্যোগ হয়েছে কিন্তু কেউ পাশে দাড়ায়নি। দুর্যোগ আসবেই কিন্তু তা মোকাবেলা করে টিকে থাকার সামর্থ অর্জন করতে হবে। সেটাই আওয়ামী লীগের লক্ষ্য।

এবারের ঝড়-জলোচ্ছ্বাস খুবই অস্বাভাবিক হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি সাইক্লোন শেল্টার করেছি, সেখানে মানুষ আশ্রয় পেয়েছে। যারা গৃহহীন, তাদের দুর্যোগ সহনীয় ঘর করে দিয়েছি। যে কারণে মানুষ অন্তত আশ্রয়ের জায়গা পেয়েছে। পশুপাখি আশ্রয়ের ব্যবস্থা পেয়েছে।’

‘আমরা চাই দুর্যোগ থেকে এই এলাকার মানুষ যেন মুক্তি পায়। আমরা জানি, এই এলাকা সবসময়ই দুর্যোগপ্রবণ।’

এর আগে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ঘূর্ণিঝড় রিমালে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বরগুনার পাথরঘাটা ও পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পরিদর্শন শেষে পটুয়াখালীর কলাপাড়া হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন।

ঘূর্ণিঝড় রিমালের কারণে পটুয়াখালীতে এ পর্যন্ত ৩,২৭,০০০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় ২৩৫টি বাড়ি সম্পূর্ণ এবং ১,৮৬৫টি আংশিকভাবে ধ্বংস হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

তারা আরো জানায়, এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষি খাতে ২৬ কোটি টাকার এবং মৎস্য খাতে ২৮ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে।

উল্লেখ্য, গেল রোববার দিবাগত রাতে বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলে তাণ্ডব চালায় প্রবল ঘূর্ণিঝড় রেমাল। মধ্যরাতে ঝড়ের সাথে জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে যায় খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুরের বেশ বিস্তীর্ণ অঞ্চল। শুধু বরিশাল বিভাগেই মৃত্যু হয় ১৯ জনের।

ঝড়ের তাণ্ডবে ভেঙে যায় গাছপালা, বাড়িঘর, বেড়িবাঁধ। দক্ষিণ অঞ্চলের অনেক মাছের ঘেরও তলিয়ে যায়।

রাতভর তাণ্ডবের পর ঘূর্ণিঝড় রেমাল সোমবার সকালের পর আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে বৃষ্টিপাত ঝড়িয়ে দুর্বল হতে থাকে।

রাজধানীস ১০ জেলায় এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অন্তত ২১ জনের প্রাণহানির খবর এ পর্যন্ত পাওয়া গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনাদের পাশে আছি, পাশে থাকব: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৩:০৪:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪

ক্ষমতায় আসার পর দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আপনাদের পাশে আছি, আপনাদের পাশে থাকব। ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সব ধরনের সহায়তা করব।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি সরকারি মোজাহার বিশ্বাস কলেজ মাঠে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোয় দলীয় নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তাদের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ অঞ্চলের যত বাঁধের ক্ষতি হয়েছে সেগুলো পুনর্নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি। যত মানুষের ঘর ভেঙে গিয়েছে ক্ষতি হয়েছে সেগুলো সব আমি করে দেব। ক্ষতিগ্রস্ত সবার হিসাব করা হচ্ছে, আজ বিকেলে সবাইকে নিয়ে বসব।’

শেখ হাসিনা বলেন, আজ ধারাবাহিকভাবে গণতন্ত্র আছে বলেই দুযোগ-দুর্বিপাকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি। মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নতি হয়। দেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতি আপনারা নিজেরাই দেখতে পাচ্ছেন। রাস্তাঘাট, স্কুল, কলেজ করে দিয়ে আপনাদের যোগাযোগের ব্যবস্থা… বিদ্যুতের ব্যবস্থা সব করে দিয়েছি।

তিনি বলেন, ভেঙে যাওয়া বাঁধ ইতোমধ্যেই পুনঃনির্মাণ শুরু করে দিয়েছি, যাতে বন্যার আগেই নির্মাণ কাজ শেষ হয়। উপকূলে দুর্যোগ সহনীয়নীয় ঘর তৈরি করে দেয়া হয়েছে। যেখানে যেখানে আপনাদের ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে সেটুকুও নতুন করে তৈরি তৈরি করে দেবো, আমার ওপর আস্থা রাখুন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দল ও সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকবে। সব ধরনের সহযোগিতা দেবে সরকার। অতীতে এমন দুর্যোগ হয়েছে কিন্তু কেউ পাশে দাড়ায়নি। দুর্যোগ আসবেই কিন্তু তা মোকাবেলা করে টিকে থাকার সামর্থ অর্জন করতে হবে। সেটাই আওয়ামী লীগের লক্ষ্য।

এবারের ঝড়-জলোচ্ছ্বাস খুবই অস্বাভাবিক হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি সাইক্লোন শেল্টার করেছি, সেখানে মানুষ আশ্রয় পেয়েছে। যারা গৃহহীন, তাদের দুর্যোগ সহনীয় ঘর করে দিয়েছি। যে কারণে মানুষ অন্তত আশ্রয়ের জায়গা পেয়েছে। পশুপাখি আশ্রয়ের ব্যবস্থা পেয়েছে।’

‘আমরা চাই দুর্যোগ থেকে এই এলাকার মানুষ যেন মুক্তি পায়। আমরা জানি, এই এলাকা সবসময়ই দুর্যোগপ্রবণ।’

এর আগে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ঘূর্ণিঝড় রিমালে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বরগুনার পাথরঘাটা ও পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পরিদর্শন শেষে পটুয়াখালীর কলাপাড়া হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন।

ঘূর্ণিঝড় রিমালের কারণে পটুয়াখালীতে এ পর্যন্ত ৩,২৭,০০০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় ২৩৫টি বাড়ি সম্পূর্ণ এবং ১,৮৬৫টি আংশিকভাবে ধ্বংস হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

তারা আরো জানায়, এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষি খাতে ২৬ কোটি টাকার এবং মৎস্য খাতে ২৮ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে।

উল্লেখ্য, গেল রোববার দিবাগত রাতে বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলে তাণ্ডব চালায় প্রবল ঘূর্ণিঝড় রেমাল। মধ্যরাতে ঝড়ের সাথে জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে যায় খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুরের বেশ বিস্তীর্ণ অঞ্চল। শুধু বরিশাল বিভাগেই মৃত্যু হয় ১৯ জনের।

ঝড়ের তাণ্ডবে ভেঙে যায় গাছপালা, বাড়িঘর, বেড়িবাঁধ। দক্ষিণ অঞ্চলের অনেক মাছের ঘেরও তলিয়ে যায়।

রাতভর তাণ্ডবের পর ঘূর্ণিঝড় রেমাল সোমবার সকালের পর আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে বৃষ্টিপাত ঝড়িয়ে দুর্বল হতে থাকে।

রাজধানীস ১০ জেলায় এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে অন্তত ২১ জনের প্রাণহানির খবর এ পর্যন্ত পাওয়া গেছে।