ঢাকা ১০:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

আদর্শ-ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় নৈতিক শিক্ষার প্রভাব সূদূরপ্রসারী- ধর্মমন্ত্রী

লিয়াকত হোসাইন লায়ন
  • আপডেট সময় : ১২:০৫:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪
  • / ৪২৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
ধর্মমন্ত্রী মোঃ ফরিদুল হক খান বলেছেন, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা শিক্ষার্থীদেরকে ধর্মীয় জ্ঞানে আলোকিত করার পাশাপাশি তাদের আচরণগত উৎকর্ষ সাধন এবং নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টিতে বিশেষ প্রভাব ফেলে। একটি আদর্শ ও ন্যায়বিচার ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় নৈতিক শিক্ষার প্রভাব সূদূরপ্রসারী।
২৭ মে সোমবার বিকেলে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে বিয়াম অডিটোরিয়ামে ‘টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ট অর্জন এবং নৈতিক শিক্ষার প্রসারে মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পের ভূমিকা’ বিষয়ক জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, মসজিদ-মন্দিরের মতো পবিত্র স্থানে বসে সাধারন শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা লাভের সুযোগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সাধারন শিক্ষার সাথে নৈতিক শিক্ষার মেলবন্ধনে শিক্ষার মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব অনেকগুণে বৃদ্ধি পায়। সমাজের সমস্ত জরা-ব্যাধি প্রতিরোধ করে একটি সুখী-সমৃদ্ধ উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে এরূপ শিক্ষা অত্যন্ত ফলপ্রসূ।
ধর্মমন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার দেশের উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট ও সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনার নিরিখে কাজ করে যাচ্ছে।  গত দেড় দশকে জাতির সামনে তিনি ৩টি উন্নয়ন পরিকল্পনা পেশ করেছেন। রূপকল্প-২০২১ এর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকার সফল হয়েছে। বাংলাদেশ স্বপ্লোন্নত দেশের দুষ্টচক্র অতিক্রম করে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, কাউকে পিছিয়ে রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়। এসডিজি’র অন্যতম মূলনীতি হলো কাউকে পিছিয়ে রাখা যাবে না। আমাদের মূল ফোকাসটা এখানেই। আমরা সবাইকে সমান তালে এগিয়ে নিতে চাই। সকল ধর্মের মানুষকে সমান গরুত্ব দিয়ে তাদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে চাই। সরকার সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ন্যায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এসডিজির লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে।
মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে ধর্মমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে চারিদিকে নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় লক্ষণীয়। দুর্নীতি- সন্ত্রাস, ঘুষ, কালোবাজারী, মজুতদারি, ভেজাল প্রভৃতি ব্যাধিগুলো সমাজে জেঁকে বসেছে। এসব ব্যাধির করাল গ্রাস থেকে সমাজকে বাঁচাতে হলে নৈতিক শিক্ষার বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে এই প্রকল্পটির উপযোগিতা এখনও শেষ হয়ে যায়নি। প্রকল্প বাস্তবায়নে কোন ত্রুটি-বিচ্যূতি থাকলে সেটা অবশ্যই আমলে নিতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে সৎ ও একনিষ্ঠ থাকতে হবে।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুঃ আঃ হামিদ জমাদ্দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি  মাগুরা-২ আসনের  সংসদ সদস্য এবং হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ড. বীরেন শিকদার, সংরক্ষিত মহিলা আসন ও হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্রীমতি আরমা দত্ত, কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য ও হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি  ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব ড. কৃষেন্দু কুমার পাল ও মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কাযক্রম (৬ষ্ঠ পযায়) প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. শ্রীকান্ত কুমার চন্দ বক্তব্য রাখেন।
উল্লেখ্য, মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম  প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় প্রকল্পের সহকারী পরিচালক, মাস্টার ট্রেইনার, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, শিক্ষকমন্ডলী ও সাংবাদিকেরা অংশগ্রহণ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আদর্শ-ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় নৈতিক শিক্ষার প্রভাব সূদূরপ্রসারী- ধর্মমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১২:০৫:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪
ধর্মমন্ত্রী মোঃ ফরিদুল হক খান বলেছেন, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা শিক্ষার্থীদেরকে ধর্মীয় জ্ঞানে আলোকিত করার পাশাপাশি তাদের আচরণগত উৎকর্ষ সাধন এবং নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টিতে বিশেষ প্রভাব ফেলে। একটি আদর্শ ও ন্যায়বিচার ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় নৈতিক শিক্ষার প্রভাব সূদূরপ্রসারী।
২৭ মে সোমবার বিকেলে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে বিয়াম অডিটোরিয়ামে ‘টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ট অর্জন এবং নৈতিক শিক্ষার প্রসারে মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা প্রকল্পের ভূমিকা’ বিষয়ক জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, মসজিদ-মন্দিরের মতো পবিত্র স্থানে বসে সাধারন শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা লাভের সুযোগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সাধারন শিক্ষার সাথে নৈতিক শিক্ষার মেলবন্ধনে শিক্ষার মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব অনেকগুণে বৃদ্ধি পায়। সমাজের সমস্ত জরা-ব্যাধি প্রতিরোধ করে একটি সুখী-সমৃদ্ধ উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে এরূপ শিক্ষা অত্যন্ত ফলপ্রসূ।
ধর্মমন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার দেশের উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট ও সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনার নিরিখে কাজ করে যাচ্ছে।  গত দেড় দশকে জাতির সামনে তিনি ৩টি উন্নয়ন পরিকল্পনা পেশ করেছেন। রূপকল্প-২০২১ এর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকার সফল হয়েছে। বাংলাদেশ স্বপ্লোন্নত দেশের দুষ্টচক্র অতিক্রম করে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উন্নীত হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, কাউকে পিছিয়ে রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়। এসডিজি’র অন্যতম মূলনীতি হলো কাউকে পিছিয়ে রাখা যাবে না। আমাদের মূল ফোকাসটা এখানেই। আমরা সবাইকে সমান তালে এগিয়ে নিতে চাই। সকল ধর্মের মানুষকে সমান গরুত্ব দিয়ে তাদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে চাই। সরকার সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ন্যায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এসডিজির লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে।
মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে ধর্মমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে চারিদিকে নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় লক্ষণীয়। দুর্নীতি- সন্ত্রাস, ঘুষ, কালোবাজারী, মজুতদারি, ভেজাল প্রভৃতি ব্যাধিগুলো সমাজে জেঁকে বসেছে। এসব ব্যাধির করাল গ্রাস থেকে সমাজকে বাঁচাতে হলে নৈতিক শিক্ষার বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে এই প্রকল্পটির উপযোগিতা এখনও শেষ হয়ে যায়নি। প্রকল্প বাস্তবায়নে কোন ত্রুটি-বিচ্যূতি থাকলে সেটা অবশ্যই আমলে নিতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে সৎ ও একনিষ্ঠ থাকতে হবে।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুঃ আঃ হামিদ জমাদ্দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি  মাগুরা-২ আসনের  সংসদ সদস্য এবং হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ড. বীরেন শিকদার, সংরক্ষিত মহিলা আসন ও হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্রীমতি আরমা দত্ত, কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য ও হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি  ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব ড. কৃষেন্দু কুমার পাল ও মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কাযক্রম (৬ষ্ঠ পযায়) প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. শ্রীকান্ত কুমার চন্দ বক্তব্য রাখেন।
উল্লেখ্য, মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম  প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় প্রকল্পের সহকারী পরিচালক, মাস্টার ট্রেইনার, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, শিক্ষকমন্ডলী ও সাংবাদিকেরা অংশগ্রহণ করেন।