ঢাকা ০৪:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

আজ আন্তর্জাতিক বনভোজন দিবস

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জুন ২০২৩
  • / ৫৬৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আন্তর্জাতিক বনভোজন দিবস আজ। প্রতিবছরই বেশ ঘটা করে পালন করা হয় এই দিবসটি। বনভোজনের ইংরজি শব্দ ‘পিকনিক’ এবং এই শব্দটির উৎপত্তি ফরাসি শব্দ ‘pique-nique’ থেকে। বেশ কয়েক যুগ আগে ফ্রান্সে কিছু ব্যক্তি বাসা থেকে খাবার নিয়ে গিয়ে রাতে রেস্তোরাঁয় বসে খেতেন এবং সঙ্গে নিতেন ওয়াইন। সেই থেকেই পিকনিক শব্দটি মানুষের সংস্কৃতিতে জড়িয়ে পড়ে।

বনভোজনের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রকৃতির সান্নিধ্যে যাওয়া ও ভালো খাবার খাওয়া এবং একই সঙ্গে মনকে প্রফুল্ল রাখা। বনভোজনের বিষয়টিকে আরও জনপ্রিয় করতে প্রতিবছরই ১৮ জুন পালিত হয় আন্তর্জাতিক বনভোজন দিবস।

দিবসটির উৎপত্তি কবে ও কীভাবে হয়, তা এখনও জানা যায় নি। তবে ফরাসিদের হাত ধরেই এই দিবসের শুরু বলে মনে করেন অনেকেই। ইতিহাসবিদদের মতে, ১৭৯৯ সালের দিকে ফরাসি বিপ্লবের শেষের দিকের কোনো একটা সময় এই দিবসটির সূচনা হয়েছে।

ফরাসি বিপ্লবের আগে বড় পার্কগুলোয় সাধারণ মানুষ ঢুকতে পারত না। ফরাসি বিপ্লবের পর সাধারণ মানুষের জন্য প্রথমবারের মতো পার্কগুলো খুলে দেওয়া হয়। মানুষজন তখন পার্কে গিয়ে খাওয়া- দাওয়া করত, মজা করত।

ইতিহাসবিদদের মতে ফরাসিদের হাত ধরে ’পিকনিক’ দিবসের সূচনা হলেও অনেক ইতিহাসবিদ জানান পিকনিকের প্রচলনটি ভিক্টোরিয়ান যুগেও হতে পারে। ভিক্টোরিয়ান যুগে মানুষেরা ঘরের বাইরে একসঙ্গে সময় কাটাতে পছন্দ করত। মজার বিষয় হলো, বাংলায় গুপ্তযুগে পুন্ড্র নগরে সর্ব প্রথম বনভোজনের আয়োজন করা হয়।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় পিকনিকটি হয়েছিল ২০০৯ সালে পর্তুগালের লিসবনে, যেখানে অংশগ্রহণ করে প্রায় ২২ হাজার মানুষ। বনভোজনের কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। সাধারণত শীতপ্রধান দেশে বনভোজন হয় গরমকালে। বাংলাদেশের মতো নাতিশীতোষ্ণ দেশে বনভোজনের উত্তম সময় হলো শীতকাল। শীতপ্রধান দেশের জন্য জুন মাসটাই হচ্ছে বনভোজনের সর্বোত্তম সময়।

অস্ট্রেলিয়ায় ছুটি হিসেবে প্রতিবছর আগস্ট মাসের প্রথম সোমবার ‘অস্ট্রেলিয়ান নর্দান টেরিটরি’ পালিত হয়। এ অঞ্চলের পিকনিকের দিন সরকারি ছুটি থাকে। বনভোজন মানে উৎসবমুখর পরিবেশে বনে কিংবা বাড়ির বাইরে ভোজন। মনোরম স্থানকেই বনভোজনের জন্য নির্বাচিত করা হয়ে থাকে। বেশিরভাগ সময় পার্ক বা উদ্যান, হ্রদ কিংবা নদীর কিনারের মতো স্থানকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়।

বনভোজন সাধারণত পরিবারের সদস্যদের ঘিরে হয়ে থাকে। অন্যান্য ক্ষেত্রে দু’জন ব্যক্তি থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এটি বড় ধরনের মিলনস্থলে রূপান্তরিত হয়। নির্দিষ্ট স্থানে রান্না আয়োজনের মধ্যবর্তী সময়ে অথবা ভোজন পরবর্তী সময়ে খেলাধুলার আয়োজন করা হয়।

যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ ডিকশনারিতে (অভিধানে) পিকনিকের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, আপনি যখন কোনো উপলক্ষ্য ছাড়া বাইরে খেতে যান, সেটাকেই মূলত পিকনিক বলা হয়। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই আয়োজন দেখা যায় বেশি। বনভোজন এমন একটি আয়োজন, যেখানে মানুষ তার প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততা, যান্ত্রিকতা অন্তত এক দিনের জন্য হলেও ভুলে থাকতে চায় এবং মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আজ আন্তর্জাতিক বনভোজন দিবস

আপডেট সময় : ১১:৩৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জুন ২০২৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আন্তর্জাতিক বনভোজন দিবস আজ। প্রতিবছরই বেশ ঘটা করে পালন করা হয় এই দিবসটি। বনভোজনের ইংরজি শব্দ ‘পিকনিক’ এবং এই শব্দটির উৎপত্তি ফরাসি শব্দ ‘pique-nique’ থেকে। বেশ কয়েক যুগ আগে ফ্রান্সে কিছু ব্যক্তি বাসা থেকে খাবার নিয়ে গিয়ে রাতে রেস্তোরাঁয় বসে খেতেন এবং সঙ্গে নিতেন ওয়াইন। সেই থেকেই পিকনিক শব্দটি মানুষের সংস্কৃতিতে জড়িয়ে পড়ে।

বনভোজনের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রকৃতির সান্নিধ্যে যাওয়া ও ভালো খাবার খাওয়া এবং একই সঙ্গে মনকে প্রফুল্ল রাখা। বনভোজনের বিষয়টিকে আরও জনপ্রিয় করতে প্রতিবছরই ১৮ জুন পালিত হয় আন্তর্জাতিক বনভোজন দিবস।

দিবসটির উৎপত্তি কবে ও কীভাবে হয়, তা এখনও জানা যায় নি। তবে ফরাসিদের হাত ধরেই এই দিবসের শুরু বলে মনে করেন অনেকেই। ইতিহাসবিদদের মতে, ১৭৯৯ সালের দিকে ফরাসি বিপ্লবের শেষের দিকের কোনো একটা সময় এই দিবসটির সূচনা হয়েছে।

ফরাসি বিপ্লবের আগে বড় পার্কগুলোয় সাধারণ মানুষ ঢুকতে পারত না। ফরাসি বিপ্লবের পর সাধারণ মানুষের জন্য প্রথমবারের মতো পার্কগুলো খুলে দেওয়া হয়। মানুষজন তখন পার্কে গিয়ে খাওয়া- দাওয়া করত, মজা করত।

ইতিহাসবিদদের মতে ফরাসিদের হাত ধরে ’পিকনিক’ দিবসের সূচনা হলেও অনেক ইতিহাসবিদ জানান পিকনিকের প্রচলনটি ভিক্টোরিয়ান যুগেও হতে পারে। ভিক্টোরিয়ান যুগে মানুষেরা ঘরের বাইরে একসঙ্গে সময় কাটাতে পছন্দ করত। মজার বিষয় হলো, বাংলায় গুপ্তযুগে পুন্ড্র নগরে সর্ব প্রথম বনভোজনের আয়োজন করা হয়।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় পিকনিকটি হয়েছিল ২০০৯ সালে পর্তুগালের লিসবনে, যেখানে অংশগ্রহণ করে প্রায় ২২ হাজার মানুষ। বনভোজনের কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। সাধারণত শীতপ্রধান দেশে বনভোজন হয় গরমকালে। বাংলাদেশের মতো নাতিশীতোষ্ণ দেশে বনভোজনের উত্তম সময় হলো শীতকাল। শীতপ্রধান দেশের জন্য জুন মাসটাই হচ্ছে বনভোজনের সর্বোত্তম সময়।

অস্ট্রেলিয়ায় ছুটি হিসেবে প্রতিবছর আগস্ট মাসের প্রথম সোমবার ‘অস্ট্রেলিয়ান নর্দান টেরিটরি’ পালিত হয়। এ অঞ্চলের পিকনিকের দিন সরকারি ছুটি থাকে। বনভোজন মানে উৎসবমুখর পরিবেশে বনে কিংবা বাড়ির বাইরে ভোজন। মনোরম স্থানকেই বনভোজনের জন্য নির্বাচিত করা হয়ে থাকে। বেশিরভাগ সময় পার্ক বা উদ্যান, হ্রদ কিংবা নদীর কিনারের মতো স্থানকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়।

বনভোজন সাধারণত পরিবারের সদস্যদের ঘিরে হয়ে থাকে। অন্যান্য ক্ষেত্রে দু’জন ব্যক্তি থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এটি বড় ধরনের মিলনস্থলে রূপান্তরিত হয়। নির্দিষ্ট স্থানে রান্না আয়োজনের মধ্যবর্তী সময়ে অথবা ভোজন পরবর্তী সময়ে খেলাধুলার আয়োজন করা হয়।

যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ ডিকশনারিতে (অভিধানে) পিকনিকের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, আপনি যখন কোনো উপলক্ষ্য ছাড়া বাইরে খেতে যান, সেটাকেই মূলত পিকনিক বলা হয়। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই আয়োজন দেখা যায় বেশি। বনভোজন এমন একটি আয়োজন, যেখানে মানুষ তার প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততা, যান্ত্রিকতা অন্তত এক দিনের জন্য হলেও ভুলে থাকতে চায় এবং মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করে।