ঢাকা ০৬:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

আখেরি মোনাজাতে শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০১:১৬:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • / ৫০৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, শান্তি, কল্যাণ কামনা করে আখেরি মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমার ৫৭তম আসর। রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে অংশ নেন তাবলিগ জামাতের মাওলানা সাদপন্থীর অনুসারিরা। দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বড় ছেলে ইউসুফ বিন সাদের।

মোনাজাতে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর হেদায়েত, ঐক্য, শান্তি, সমৃদ্ধি, ইহকাল ও পরকালের নাজাত এবং দ্বীনের দাওয়াত সর্বত্র পৌঁছে দেয়ার জন্য দোয়া করা হয়। এছাড়া সব ধরনের গুনাহ থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়। মোনাজাত শেষ আমিন আমিন ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে টঙ্গীর তুরাগ তীর ও ইজতেমা ময়দানের আশপাশ।

আখেরি মোনাজাতে নিজের আত্মশুদ্ধি ও নিজ নিজ গুনাহ মাফের পাশাপাশি দুনিয়ার সব বালা-মুসিবত থেকে হেফাজত করার জন্য দুই হাত তুলে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় উপস্থিত লাখ লাখ মুসল্লি প্রার্থনা করেন। ২৬ মিনিট স্থায়ী এই মোনাজাতে দুই হাত ওপরে তুলে লাখ লাখ মুসল্লি বারবার বলছিলেন, আমিন আমিন। মোনাজাতের সময় এই ধ্বনিতে পুরো টঙ্গী এলাকা আমিন আমিন ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে।

এর আগে শেষ পর্বের ইজতেমার আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে ঢাকা, গাজীপুরসহ আশপাশের জেলা থেকে বাস, ট্রেন, ট্রাক, লঞ্চ, নৌকাযোগে কেউবা পায়ে হেঁটে দলে দলে ইজতেমাস্থলে ছুটে আসেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে আখেরি মোনাজাতের পূর্ব অবধি পৃথিবীর ৬৫ টি দেশ থেকে ৯ হাজার ২৩১ জন বিদেশি মেহমান অংশ নিয়েছেন৷ বিদেশি মেহমানদের সার্বক্ষনিক সহযোগিতার জন্য রয়েছে বাংলাদেশি জিম্মাদার (দায়িত্বশীল) সাথীরা৷

তথ্যে দেখা গেছে, মেহমানদের মধ্যে আরবী ভাষাভাষীর ৭৩২ জন, ইংরেজি ভাষাভাষীর রয়েছেন ২ হাজার ৬১৫ জন, উর্দু ভাষাভাষীর ২ হাজার ৬৬২ জন। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের ২ হাজার ৭৫৯ জন এবং অন্যান্য ভাষাভাষীর ২৭৩ জন ইজতেমায় অংশ নেন। এছাড়া ১৯০ জন বিদেশি শিক্ষার্থী রয়েছে৷

এবারের ইজতেমায় ভারত থেকে সর্বাধিক মেহমান এসেছেন৷ এবছর ভারত থেকে ৪ হাজার ৬০১ জন বিদেশি মেহমান অংশ নিয়েছেন৷ ইন্দোনেশিয়া থেকে ৭৭৯ জন, মালয়েশিয়া থেকে ৫৮২ জন, নেপাল থেকে ৪৯০ জন, শ্রীলঙ্কা থেকে ৪৭৪ জন, থাইল্যান্ড থেকে ২৫৫ জন, আমেরিকা থেকে ৮৫ জনসহ বিশ্বের ৬৫ টি দেশের মোট ৯২৩১ জন বিদেশি মেহমান অংশ নেন৷

দ্বিতীয় পর্বের‌ মিডিয়া সমন্বয়ক মোহাম্মদ সায়েম জানান, চলমান ইজ‌তেমার দ্বিতীয় প‌র্বে ৬৫ দেশে ৯২৩১ জন বিদেশি মেহমান অংশ নিয়েছেন। ইজতেমায় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব-আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইথিওপিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, পাকিস্থান, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা, স্পেন, সুইজারল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, কাজাখস্তান, খিরগিজস্থান, মালয়েশিয়া, মরক্কো, নেপাল, কেনিয়া, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, জর্ডান ও দুবাইসহ বিশ্বের ৬১টি দেশের প্রায় চার হাজার’ বিদেশি মুসল্লি অংশ নিয়েছেন।

এদিকে মুসল্লিদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত থেকে ইজতেমা ময়দানের আশেপাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুব আলম জানিয়েছেন, প্রথম পর্বের মতো একই নিরাপত্তা ব্যবস্থা এ পর্বেও অব্যাহত আছে।

এর আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি প্রথম পর্বের ইজতেমায় অংশ নেন মাওলানা জুবায়ের আহমেদের অনুসারীরা।

যৌতুকবিহীন বিয়ে
বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের মতো দ্বিতীয় পর্বেও যৌতুকবিহীন বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইজতেমাস্থলে বয়ান মঞ্চের পাশে হযরত ফাতেমা (রা.) ও হযরত আলী (রা.) এর বিয়ের দেনমোহর অনুসারে এ বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। গতকাল শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সাড়ে ৫টার দিকে যৌতুকবিহীন গণবিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এবারে বিয়েতে ১৪টি যুগলের বিয়ে পড়ানো হয়।

ইজতেমার মিডিয়া সমন্বয়ক মোহাম্মদ সায়েম বলেন, ‘শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে যৌতুকবিহীন বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বিয়ের জন্য ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ১৪টি যুগলের নাম অভিভাবকরা বর কনের নাম কর্তৃপক্ষের কাছে তালিকাভুক্ত করেন।’

বিয়ের আগে খুতবা প্রদান করা হয়ে থাকে। বয়ান শেষে ওইসব বর-কনের অভিভাবকদের সম্মতিতে বিয়ে পড়ানো হয়। বিয়ে শেষে উপস্থিত দম্পতিদের স্বজন ও মুসল্লিদের মধ্যে খোরমা-খেজুর বিতরণ করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আখেরি মোনাজাতে শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমা

আপডেট সময় : ০১:১৬:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, শান্তি, কল্যাণ কামনা করে আখেরি মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমার ৫৭তম আসর। রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে অংশ নেন তাবলিগ জামাতের মাওলানা সাদপন্থীর অনুসারিরা। দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বড় ছেলে ইউসুফ বিন সাদের।

মোনাজাতে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর হেদায়েত, ঐক্য, শান্তি, সমৃদ্ধি, ইহকাল ও পরকালের নাজাত এবং দ্বীনের দাওয়াত সর্বত্র পৌঁছে দেয়ার জন্য দোয়া করা হয়। এছাড়া সব ধরনের গুনাহ থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়। মোনাজাত শেষ আমিন আমিন ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে টঙ্গীর তুরাগ তীর ও ইজতেমা ময়দানের আশপাশ।

আখেরি মোনাজাতে নিজের আত্মশুদ্ধি ও নিজ নিজ গুনাহ মাফের পাশাপাশি দুনিয়ার সব বালা-মুসিবত থেকে হেফাজত করার জন্য দুই হাত তুলে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় উপস্থিত লাখ লাখ মুসল্লি প্রার্থনা করেন। ২৬ মিনিট স্থায়ী এই মোনাজাতে দুই হাত ওপরে তুলে লাখ লাখ মুসল্লি বারবার বলছিলেন, আমিন আমিন। মোনাজাতের সময় এই ধ্বনিতে পুরো টঙ্গী এলাকা আমিন আমিন ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে।

এর আগে শেষ পর্বের ইজতেমার আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে ঢাকা, গাজীপুরসহ আশপাশের জেলা থেকে বাস, ট্রেন, ট্রাক, লঞ্চ, নৌকাযোগে কেউবা পায়ে হেঁটে দলে দলে ইজতেমাস্থলে ছুটে আসেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে আখেরি মোনাজাতের পূর্ব অবধি পৃথিবীর ৬৫ টি দেশ থেকে ৯ হাজার ২৩১ জন বিদেশি মেহমান অংশ নিয়েছেন৷ বিদেশি মেহমানদের সার্বক্ষনিক সহযোগিতার জন্য রয়েছে বাংলাদেশি জিম্মাদার (দায়িত্বশীল) সাথীরা৷

তথ্যে দেখা গেছে, মেহমানদের মধ্যে আরবী ভাষাভাষীর ৭৩২ জন, ইংরেজি ভাষাভাষীর রয়েছেন ২ হাজার ৬১৫ জন, উর্দু ভাষাভাষীর ২ হাজার ৬৬২ জন। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের ২ হাজার ৭৫৯ জন এবং অন্যান্য ভাষাভাষীর ২৭৩ জন ইজতেমায় অংশ নেন। এছাড়া ১৯০ জন বিদেশি শিক্ষার্থী রয়েছে৷

এবারের ইজতেমায় ভারত থেকে সর্বাধিক মেহমান এসেছেন৷ এবছর ভারত থেকে ৪ হাজার ৬০১ জন বিদেশি মেহমান অংশ নিয়েছেন৷ ইন্দোনেশিয়া থেকে ৭৭৯ জন, মালয়েশিয়া থেকে ৫৮২ জন, নেপাল থেকে ৪৯০ জন, শ্রীলঙ্কা থেকে ৪৭৪ জন, থাইল্যান্ড থেকে ২৫৫ জন, আমেরিকা থেকে ৮৫ জনসহ বিশ্বের ৬৫ টি দেশের মোট ৯২৩১ জন বিদেশি মেহমান অংশ নেন৷

দ্বিতীয় পর্বের‌ মিডিয়া সমন্বয়ক মোহাম্মদ সায়েম জানান, চলমান ইজ‌তেমার দ্বিতীয় প‌র্বে ৬৫ দেশে ৯২৩১ জন বিদেশি মেহমান অংশ নিয়েছেন। ইজতেমায় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব-আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইথিওপিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, পাকিস্থান, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা, স্পেন, সুইজারল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, কাজাখস্তান, খিরগিজস্থান, মালয়েশিয়া, মরক্কো, নেপাল, কেনিয়া, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, জর্ডান ও দুবাইসহ বিশ্বের ৬১টি দেশের প্রায় চার হাজার’ বিদেশি মুসল্লি অংশ নিয়েছেন।

এদিকে মুসল্লিদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত থেকে ইজতেমা ময়দানের আশেপাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুব আলম জানিয়েছেন, প্রথম পর্বের মতো একই নিরাপত্তা ব্যবস্থা এ পর্বেও অব্যাহত আছে।

এর আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি প্রথম পর্বের ইজতেমায় অংশ নেন মাওলানা জুবায়ের আহমেদের অনুসারীরা।

যৌতুকবিহীন বিয়ে
বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের মতো দ্বিতীয় পর্বেও যৌতুকবিহীন বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইজতেমাস্থলে বয়ান মঞ্চের পাশে হযরত ফাতেমা (রা.) ও হযরত আলী (রা.) এর বিয়ের দেনমোহর অনুসারে এ বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। গতকাল শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সাড়ে ৫টার দিকে যৌতুকবিহীন গণবিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এবারে বিয়েতে ১৪টি যুগলের বিয়ে পড়ানো হয়।

ইজতেমার মিডিয়া সমন্বয়ক মোহাম্মদ সায়েম বলেন, ‘শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে যৌতুকবিহীন বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বিয়ের জন্য ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ১৪টি যুগলের নাম অভিভাবকরা বর কনের নাম কর্তৃপক্ষের কাছে তালিকাভুক্ত করেন।’

বিয়ের আগে খুতবা প্রদান করা হয়ে থাকে। বয়ান শেষে ওইসব বর-কনের অভিভাবকদের সম্মতিতে বিয়ে পড়ানো হয়। বিয়ে শেষে উপস্থিত দম্পতিদের স্বজন ও মুসল্লিদের মধ্যে খোরমা-খেজুর বিতরণ করা হয়।