ঢাকা ০৮:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

আওয়ামী লীগ সরকারের দেশ শাসনের কোনো অধিকার নেই : মির্জা ফখরুল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৬:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর ২০২২
  • / ৪৬২ বার পড়া হয়েছে

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক : 
আওয়ামী লীগ সরকারের দেশ শাসনের কোনো অধিকার নেই। অবিলম্বে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। ভালোই ভালোই সরে পড়ুক। নইলে দেশের জনগণ জানে কীভাবে সরাতে হয়। হাসিনার সরকার ঘাবড়ে গিয়েছে। ঘাবড়ে গিয়ে তারা সরকারি কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুত করছে। কিন্তু এভাবে শেষ রক্ষা হবে না বলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সারাদেশে দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, তাদের নামে মামলা, নির্যাতন, গ্রেফতার ও জামিন বাতিলের প্রতিবাদে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের চলমান আন্দোলনের মূল লক্ষ্য এই সরকারের গণবিরোধী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে। আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত, তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে আমাদের আন্দোলন। সারাদেশে বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মীদের হত্যার প্রতিবাদে আন্দোলন। আমরা বলতে চাই আমাদের যেসব সহযোদ্ধা শহীদ হয়েছেন তাদের রক্ত ও আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না।

ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অবিলম্বে মিথ্যা মামলা ও গুলি করে মানুষ হত্যা বন্ধ করেন। ইতিহাস ভুলে যাবেন না। দেশের মানুষ কাউকে ক্ষমা করেনি। দেয়ালের লিখন পড়ুন। সাধারণ মানুষের মনের ভাষা বুঝতে শিখুন।

তিনি আরো বলেন, সরকার সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। তারা মানুষের টাকা নিয়ে বিদেশে পাচার করছে। আর প্রধানমন্ত্রী বলেছেন বিদ্যুৎ আছে, পাবেন। কিন্তু আমাদের তো চলে না। দিনে পাঁচ ছয়বার লোডশেডিং হয়। মানুষ অতিষ্ঠ। দেশের কলকারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। কলকারখানা বন্ধ হলে লাখ লাখ কর্মী বেকার হবেন। আজ তারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের অবসরে পাঠাচ্ছে।

সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক মো. আবদুস সালাম বলেন, খেলা শুরু হয়ে গেছে। আর আওয়ামী লীগ হাবুডুবু খাচ্ছে। আওয়ামী লীগ লেজ গুটিয়ে দৌড় দিছে। তারেক রহমান দেশে এলে আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মীকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। আসন্ন দুর্ভিক্ষ থেকে বাঁচতে হলে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে।

ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পাঁচজনকে হত্যা করেছেন। প্রয়োজনে বুক পেতে দেব। কিন্তু আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। যারা সমাবেশে যাওয়ার আগেই বাস চলাচল বন্ধ করে দেন, তাদের কালো তালিকা করা হবে। আমরা অনেক সহ্য করেছি আর নয়। আমরা যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত। দেশ ও দেশের মানুষকে বাঁচাতে আওয়ামী লীগের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে।

দুপুর ২টায় সমাবেশ শুরুর কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসতে থাকেন ঢাকা মহানগরীর থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। কয়েক হাজার নেতাকর্মী সমাবেশে জড়ো হওয়ায় ফকিরাপুল মোড় থেকে কাকরাইলের নাইটিংগেল মোড় পর্যন্ত সড়কের দক্ষিণ দিকে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তৃতা চলাকালে সমাবেশে আগত নেতা কর্মীদের মধ্যে কিছুটা বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তৈরি হয়। আমানুল্লাহ আমান ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কথা বলেন।

এ ছাড়া মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য চলাচলে সমাবেশে ড্রোনের উপস্থিতি দেখা যায়। এনিয়েও নেতাকর্মীদের মধ্যে বেশ উৎসাহ দেখা গেছে।

ঢাকা দক্ষিণের সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু ও উত্তরের সদস্য সচিব মো. আমিনুল হকের পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নেতা আমান উল্লাহ আমান, আবুল খায়ের ভুইয়া, জয়নুল আবদীন ফারুক, মীর সরফত আলী সপু, নাজিম উদ্দিন আলম, যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল, কৃষকদলের হাসান জাফির তুহিন, যুবদলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও আব্দুল মোনায়েম মুন্না, স্বেচ্ছাসেবক দলের এসএম জিলানী ও রাজীব আহসান, মহিলা দলের হেলেন জেরিন খান, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাদেক আহমেদ খান, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ, মৎস্যজীবী দলের মো. আব্দুর রহিম, শ্রমিক দলের হুমায়ূন কবির খান, জাসাসের জাকির হোসেন রোকন, ছাত্রদলের কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাইফ মাহমুদ জুয়েল প্রমুখ।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আওয়ামী লীগ সরকারের দেশ শাসনের কোনো অধিকার নেই : মির্জা ফখরুল

আপডেট সময় : ০৭:৩৬:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক : 
আওয়ামী লীগ সরকারের দেশ শাসনের কোনো অধিকার নেই। অবিলম্বে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। ভালোই ভালোই সরে পড়ুক। নইলে দেশের জনগণ জানে কীভাবে সরাতে হয়। হাসিনার সরকার ঘাবড়ে গিয়েছে। ঘাবড়ে গিয়ে তারা সরকারি কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুত করছে। কিন্তু এভাবে শেষ রক্ষা হবে না বলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সারাদেশে দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, তাদের নামে মামলা, নির্যাতন, গ্রেফতার ও জামিন বাতিলের প্রতিবাদে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের চলমান আন্দোলনের মূল লক্ষ্য এই সরকারের গণবিরোধী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে। আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত, তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে আমাদের আন্দোলন। সারাদেশে বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মীদের হত্যার প্রতিবাদে আন্দোলন। আমরা বলতে চাই আমাদের যেসব সহযোদ্ধা শহীদ হয়েছেন তাদের রক্ত ও আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না।

ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অবিলম্বে মিথ্যা মামলা ও গুলি করে মানুষ হত্যা বন্ধ করেন। ইতিহাস ভুলে যাবেন না। দেশের মানুষ কাউকে ক্ষমা করেনি। দেয়ালের লিখন পড়ুন। সাধারণ মানুষের মনের ভাষা বুঝতে শিখুন।

তিনি আরো বলেন, সরকার সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। তারা মানুষের টাকা নিয়ে বিদেশে পাচার করছে। আর প্রধানমন্ত্রী বলেছেন বিদ্যুৎ আছে, পাবেন। কিন্তু আমাদের তো চলে না। দিনে পাঁচ ছয়বার লোডশেডিং হয়। মানুষ অতিষ্ঠ। দেশের কলকারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। কলকারখানা বন্ধ হলে লাখ লাখ কর্মী বেকার হবেন। আজ তারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের অবসরে পাঠাচ্ছে।

সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক মো. আবদুস সালাম বলেন, খেলা শুরু হয়ে গেছে। আর আওয়ামী লীগ হাবুডুবু খাচ্ছে। আওয়ামী লীগ লেজ গুটিয়ে দৌড় দিছে। তারেক রহমান দেশে এলে আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মীকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। আসন্ন দুর্ভিক্ষ থেকে বাঁচতে হলে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে।

ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পাঁচজনকে হত্যা করেছেন। প্রয়োজনে বুক পেতে দেব। কিন্তু আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। যারা সমাবেশে যাওয়ার আগেই বাস চলাচল বন্ধ করে দেন, তাদের কালো তালিকা করা হবে। আমরা অনেক সহ্য করেছি আর নয়। আমরা যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত। দেশ ও দেশের মানুষকে বাঁচাতে আওয়ামী লীগের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে।

দুপুর ২টায় সমাবেশ শুরুর কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসতে থাকেন ঢাকা মহানগরীর থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। কয়েক হাজার নেতাকর্মী সমাবেশে জড়ো হওয়ায় ফকিরাপুল মোড় থেকে কাকরাইলের নাইটিংগেল মোড় পর্যন্ত সড়কের দক্ষিণ দিকে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তৃতা চলাকালে সমাবেশে আগত নেতা কর্মীদের মধ্যে কিছুটা বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তৈরি হয়। আমানুল্লাহ আমান ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কথা বলেন।

এ ছাড়া মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য চলাচলে সমাবেশে ড্রোনের উপস্থিতি দেখা যায়। এনিয়েও নেতাকর্মীদের মধ্যে বেশ উৎসাহ দেখা গেছে।

ঢাকা দক্ষিণের সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু ও উত্তরের সদস্য সচিব মো. আমিনুল হকের পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নেতা আমান উল্লাহ আমান, আবুল খায়ের ভুইয়া, জয়নুল আবদীন ফারুক, মীর সরফত আলী সপু, নাজিম উদ্দিন আলম, যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল, কৃষকদলের হাসান জাফির তুহিন, যুবদলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও আব্দুল মোনায়েম মুন্না, স্বেচ্ছাসেবক দলের এসএম জিলানী ও রাজীব আহসান, মহিলা দলের হেলেন জেরিন খান, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাদেক আহমেদ খান, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ, মৎস্যজীবী দলের মো. আব্দুর রহিম, শ্রমিক দলের হুমায়ূন কবির খান, জাসাসের জাকির হোসেন রোকন, ছাত্রদলের কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাইফ মাহমুদ জুয়েল প্রমুখ।