ঢাকা ১০:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

আইসিইউতে ঘুরছে গরু, খাচ্ছে খাবারও

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৮:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ নভেম্বর ২০২২
  • / ৪৪৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 
কেউ অসুস্থ হলে বা রোগাক্রান্ত হলে মানুষের আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে হাসপাতাল। আর হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ)-তে চলে রোগীদের নিবিড় পরিচর্যা। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানটিতে অনেক সময় রোগীর স্বজনরাও যেতে পারেন না।

তবে সেখানেই যদি কোনও গরু ঢুকে পড়ে! তাহলে? শুনতে অবাস্তব মনে হলেও বাস্তবে তেমনই ঘটেছে ভারতের মধ্যপ্রদেশের একটি হাসপাতালে। এমনকি এই ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজও ছড়িয়ে পড়েছে। আর সেটিও রীতিমতো ভাইরাল।

শনিবার (১৯ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মর্মান্তিক এক ঘটনায় গত শুক্রবার মধ্যপ্রদেশের রাজগড় জেলার একটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) একটি গরু প্রবেশ করেছে। গরুটিকে সেখানে অবাধে বিচরণ করতে দেখা গেছে এবং হাসপাতাল চত্বরে থাকা ময়লা-আবর্জনা থেকে চিকিৎসা বর্জ্যও খেতে দেখা গেছে।

যদিও সারাদিন হাসপাতালে নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন থাকলেও গরুটিকে হাসপাতাল থেকে দূরে পাঠানোর জন্য কাউকেই পাওয়া যায়নি। এছাড়া গরু তাড়ানোর জন্য অভিযুক্ত হাসপাতালটিতে দু’জন গরু ক্যাচারকে নিয়োগ করা হলেও ঘটনার সময় তারা কেউই সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, মধ্যপ্রদেশের রাজগড় জেলায় একটি সরকারি হাসপাতালের ভেতরে বিনা বাধায় ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে একটি গরুকে। ওয়ার্ডের ভেতরে ও হাসপাতাল চত্বরে রাখা মেডিকেল ওয়েস্ট বা চিকিৎসা সংক্রান্ত আবর্জনার স্তুপ থেকে খাবার ও অন্যান্য পচা-গলা জিনিস খেয়েছে সেই গরুটি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, ২৪ ঘণ্টার জন্যই নিরাপত্তারক্ষী নিযুক্ত রয়েছে ওই হাসপাতালে, কিন্তু অধিকাংশ সময়ই তাদের খোঁজ পাওয়া যায় না। ওই এলাকায় গরুর উপদ্রব থাকায়, হাসপাতালের পক্ষ থেকে দুই ব্যক্তিকেও নিয়োগ করা হয়েছিল গরু তাড়ানোর জন্য, কিন্তু ঘটনার দিন তাদেরও দেখা মেলেনি।

হাসপাতালের আইসিইউতে গরু ঘুরে বেড়ানোর ছবি ও ভিডিও সোশ্য়াল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই শোরগোল পড়ে গেছে। সংবাদমাধ্যম বলছে, গত শুক্রবার মধ্যপ্রদেশের রাজগড় জেলার হাসপাতালের আইসিইউ ওয়ার্ডের ভেতরে গরু ঢুকে পড়ে। ভিডিওটি ভাইরাল হতেই হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষী ও দুইজন কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

জেলা হাসপাতালের সিভিল সার্জন ড. রাজেন্দ্র কাতারিয়া বলেন, আমাদের পুরোনো কোভিড আইসিইউ ওয়ার্ডে ঢুকে পড়েছিল গরুটি। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই ওয়ার্ড বয় ও নিরাপত্তারক্ষীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের জনস্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী প্রভুরাম চৌধুরী জানান, তিনি এই বিষয়ে কিছু জানেন না।

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই উত্তর প্রদেশের মোরাদাবাদের জেলা হাসপাতালের ভেতরেও কুকুর ঘুরতে দেখা গিয়েছিল। নিরাপত্তারক্ষীর সামনে দিয়েই ওয়ার্ডে ঢোকা ও রোগীর বিছানায় ঘুমাতে দেখা গিয়েছিল কুকুরকে।

এর আগে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের একটি সরকারি হাসপাতালে দিনে-দুপুরে হাসপাতালের বেডে কুকুর ঘুমানোর ভিডিও ভাইরাল হয়। এরপরই রাজ্যের সার্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বিরোধীরা। রাজ্যের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের নিন্দাও জানিয়েছিলেন অনেকে।

তারও আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের বিহার রাজ্যের একটি সরকারি হাসপাতালে কুকুর ঘুমানোর ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই বিহারের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আইসিইউতে ঘুরছে গরু, খাচ্ছে খাবারও

আপডেট সময় : ০৭:৩৮:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ নভেম্বর ২০২২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 
কেউ অসুস্থ হলে বা রোগাক্রান্ত হলে মানুষের আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে হাসপাতাল। আর হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ)-তে চলে রোগীদের নিবিড় পরিচর্যা। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই স্থানটিতে অনেক সময় রোগীর স্বজনরাও যেতে পারেন না।

তবে সেখানেই যদি কোনও গরু ঢুকে পড়ে! তাহলে? শুনতে অবাস্তব মনে হলেও বাস্তবে তেমনই ঘটেছে ভারতের মধ্যপ্রদেশের একটি হাসপাতালে। এমনকি এই ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজও ছড়িয়ে পড়েছে। আর সেটিও রীতিমতো ভাইরাল।

শনিবার (১৯ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মর্মান্তিক এক ঘটনায় গত শুক্রবার মধ্যপ্রদেশের রাজগড় জেলার একটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) একটি গরু প্রবেশ করেছে। গরুটিকে সেখানে অবাধে বিচরণ করতে দেখা গেছে এবং হাসপাতাল চত্বরে থাকা ময়লা-আবর্জনা থেকে চিকিৎসা বর্জ্যও খেতে দেখা গেছে।

যদিও সারাদিন হাসপাতালে নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন থাকলেও গরুটিকে হাসপাতাল থেকে দূরে পাঠানোর জন্য কাউকেই পাওয়া যায়নি। এছাড়া গরু তাড়ানোর জন্য অভিযুক্ত হাসপাতালটিতে দু’জন গরু ক্যাচারকে নিয়োগ করা হলেও ঘটনার সময় তারা কেউই সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, মধ্যপ্রদেশের রাজগড় জেলায় একটি সরকারি হাসপাতালের ভেতরে বিনা বাধায় ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে একটি গরুকে। ওয়ার্ডের ভেতরে ও হাসপাতাল চত্বরে রাখা মেডিকেল ওয়েস্ট বা চিকিৎসা সংক্রান্ত আবর্জনার স্তুপ থেকে খাবার ও অন্যান্য পচা-গলা জিনিস খেয়েছে সেই গরুটি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, ২৪ ঘণ্টার জন্যই নিরাপত্তারক্ষী নিযুক্ত রয়েছে ওই হাসপাতালে, কিন্তু অধিকাংশ সময়ই তাদের খোঁজ পাওয়া যায় না। ওই এলাকায় গরুর উপদ্রব থাকায়, হাসপাতালের পক্ষ থেকে দুই ব্যক্তিকেও নিয়োগ করা হয়েছিল গরু তাড়ানোর জন্য, কিন্তু ঘটনার দিন তাদেরও দেখা মেলেনি।

হাসপাতালের আইসিইউতে গরু ঘুরে বেড়ানোর ছবি ও ভিডিও সোশ্য়াল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই শোরগোল পড়ে গেছে। সংবাদমাধ্যম বলছে, গত শুক্রবার মধ্যপ্রদেশের রাজগড় জেলার হাসপাতালের আইসিইউ ওয়ার্ডের ভেতরে গরু ঢুকে পড়ে। ভিডিওটি ভাইরাল হতেই হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষী ও দুইজন কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

জেলা হাসপাতালের সিভিল সার্জন ড. রাজেন্দ্র কাতারিয়া বলেন, আমাদের পুরোনো কোভিড আইসিইউ ওয়ার্ডে ঢুকে পড়েছিল গরুটি। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যেই ওয়ার্ড বয় ও নিরাপত্তারক্ষীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের জনস্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী প্রভুরাম চৌধুরী জানান, তিনি এই বিষয়ে কিছু জানেন না।

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই উত্তর প্রদেশের মোরাদাবাদের জেলা হাসপাতালের ভেতরেও কুকুর ঘুরতে দেখা গিয়েছিল। নিরাপত্তারক্ষীর সামনে দিয়েই ওয়ার্ডে ঢোকা ও রোগীর বিছানায় ঘুমাতে দেখা গিয়েছিল কুকুরকে।

এর আগে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের একটি সরকারি হাসপাতালে দিনে-দুপুরে হাসপাতালের বেডে কুকুর ঘুমানোর ভিডিও ভাইরাল হয়। এরপরই রাজ্যের সার্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বিরোধীরা। রাজ্যের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের নিন্দাও জানিয়েছিলেন অনেকে।

তারও আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের বিহার রাজ্যের একটি সরকারি হাসপাতালে কুকুর ঘুমানোর ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই বিহারের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।