ঢাকা ০৪:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

অস্ত্র প্রতিযোগিতা না, বাংলাদেশ শান্তি চায়: প্রধানমন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:২৪:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ মে ২০২৩
  • / ৪৭৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ সংঘাত চায় না, অস্ত্র প্রতিযোগিতা চায় না। বাংলাদেশে শান্তি চায় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, শান্তিতে বিশ্বাসী বাংলাদেশ সবসময় শান্তির জন্য যা যা করার দরকার, তাই করবে।

সোমবার (২৯ মে) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় শান্তিরক্ষী ৫ শহীদ পরিবার ও ৫ আহত শান্তিরক্ষীকে সম্মাননা প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংঘাত নয় শান্তি চাই। যেকোনো সংঘাত আলোচনায় সমাধান চাই। অস্ত্র প্রতিযোগিতা আমরা চাই না। সংঘাতের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নারী ও শিশু। বাংলাদেশ সবসময় শান্তিতে বিশ্বাস করে। শান্তির জন্য যা যা করার দরকার, বাংলাদেশ তাই করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে আমি শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আমি বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জীবন উৎসর্গকারী সব শান্তিরক্ষীর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। শ্রদ্ধা জানাচ্ছি সব আহত শান্তিরক্ষীসহ বর্তমানে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত শান্তিরক্ষীর প্রতি।

সরকার প্রধান বলেন, বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা যাতে বিশ্বের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং এবং বিপজ্জনক অঞ্চলসমূহে সৃষ্ট জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারে সেজন্য আমরা তাদের সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ দিয়ে সর্বদা প্রস্তুত রেখেছি। মিশন এলাকার পরিবেশ, আবহাওয়া ও ভূমির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নত প্রযুক্তির সামরিক সরঞ্জামাদিসহ পোশাক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। আমরা বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টগুলো অত্যাধুনিক মাইন-রেজিস্টান্ট অ্যামবুশ প্রটেক্টেড যানবাহন এবং শান্তিরক্ষীদের যোগাযোগের জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন করেছি। আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন ও প্রশিক্ষণ একটি চলমান প্রক্রিয়া যা আমরা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘে সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে বাংলাদেশি সৈন্যরা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পররাষ্ট্রনীতি ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়’ -সেটা আজও অনুসরণ করছে বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা দেশে স্থিতিশীলতায় কাজের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্বও পালন করেন। ’ শান্তিরক্ষীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা সংঘাত প্রতিরোধ ও শান্তি রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন। অন্য দেশের শান্তিরক্ষীদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। শান্তি রক্ষায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন। এ জন্য আপনাদের জন্য দোয়া করি, ধন্যবাদ জানাই। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দারিদ্র্য কমাতে সক্ষম হয়েছি। পদ্মা সেতুর মতো সেতু করেছি। দেশের উন্নয়ন করে যাচ্ছি। গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকায় উন্নয়ন হয়েছে। ’

উল্লেখ্য, ২০০০ সাল থেকে বাংলাদেশ পুলিশের নারী পুলিশ কর্মকর্তারা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের ১৫৭ জন নারী পুলিশ শান্তিরক্ষী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছেন। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পুলিশের ১ হাজার ৭৬৬ জন নারী শান্তিরক্ষী বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বাংলাদেশ পুলিশের শান্তিরক্ষীরা নানা প্রতিকূলতার মাঝে প্রচণ্ড মানসিক শক্তি নিয়ে মানুষকে আপন করে নিয়েছেন, তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বাংলাদেশ পুলিশ হাইতির ভূমিকম্প বিধ্বস্ত অসহায় মানুষের জন্য কাজ করেছেন, তেমনি আফ্রিকা এমনকি ইউরোপের বিভিন্ন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে তৃণমূল পর্যায়ে পুলিশের সেবা প্রদান, পুলিশের প্রতিষ্ঠানিক কাঠামো পুর্নবিন্যাস ও পুনর্গঠন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকা আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে সমাদৃত হয়েছে।

বাংলাদেশ পুলিশের শান্তিরক্ষীরা দুর্গম ভৌগলিক পরিবেশ ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও প্রচন্ড মানসিক শক্তি নিয়ে মানবিকতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বশান্তি রক্ষায় নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে চলেছে।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ পুলিশের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা ও অনন্য অবদান রয়েছে, যা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা বাড়িয়েছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ পুলিশ অঙ্গীকারবদ্ধ।

নিউজটি শেয়ার করুন

অস্ত্র প্রতিযোগিতা না, বাংলাদেশ শান্তি চায়: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০১:২৪:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ মে ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ সংঘাত চায় না, অস্ত্র প্রতিযোগিতা চায় না। বাংলাদেশে শান্তি চায় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, শান্তিতে বিশ্বাসী বাংলাদেশ সবসময় শান্তির জন্য যা যা করার দরকার, তাই করবে।

সোমবার (২৯ মে) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় শান্তিরক্ষী ৫ শহীদ পরিবার ও ৫ আহত শান্তিরক্ষীকে সম্মাননা প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংঘাত নয় শান্তি চাই। যেকোনো সংঘাত আলোচনায় সমাধান চাই। অস্ত্র প্রতিযোগিতা আমরা চাই না। সংঘাতের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নারী ও শিশু। বাংলাদেশ সবসময় শান্তিতে বিশ্বাস করে। শান্তির জন্য যা যা করার দরকার, বাংলাদেশ তাই করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে আমি শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আমি বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জীবন উৎসর্গকারী সব শান্তিরক্ষীর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। শ্রদ্ধা জানাচ্ছি সব আহত শান্তিরক্ষীসহ বর্তমানে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত শান্তিরক্ষীর প্রতি।

সরকার প্রধান বলেন, বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা যাতে বিশ্বের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং এবং বিপজ্জনক অঞ্চলসমূহে সৃষ্ট জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারে সেজন্য আমরা তাদের সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ দিয়ে সর্বদা প্রস্তুত রেখেছি। মিশন এলাকার পরিবেশ, আবহাওয়া ও ভূমির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নত প্রযুক্তির সামরিক সরঞ্জামাদিসহ পোশাক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। আমরা বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টগুলো অত্যাধুনিক মাইন-রেজিস্টান্ট অ্যামবুশ প্রটেক্টেড যানবাহন এবং শান্তিরক্ষীদের যোগাযোগের জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন করেছি। আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন ও প্রশিক্ষণ একটি চলমান প্রক্রিয়া যা আমরা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখবো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘে সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে বাংলাদেশি সৈন্যরা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পররাষ্ট্রনীতি ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়’ -সেটা আজও অনুসরণ করছে বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা দেশে স্থিতিশীলতায় কাজের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্বও পালন করেন। ’ শান্তিরক্ষীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা সংঘাত প্রতিরোধ ও শান্তি রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন। অন্য দেশের শান্তিরক্ষীদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। শান্তি রক্ষায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন। এ জন্য আপনাদের জন্য দোয়া করি, ধন্যবাদ জানাই। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দারিদ্র্য কমাতে সক্ষম হয়েছি। পদ্মা সেতুর মতো সেতু করেছি। দেশের উন্নয়ন করে যাচ্ছি। গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকায় উন্নয়ন হয়েছে। ’

উল্লেখ্য, ২০০০ সাল থেকে বাংলাদেশ পুলিশের নারী পুলিশ কর্মকর্তারা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের ১৫৭ জন নারী পুলিশ শান্তিরক্ষী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছেন। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পুলিশের ১ হাজার ৭৬৬ জন নারী শান্তিরক্ষী বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বাংলাদেশ পুলিশের শান্তিরক্ষীরা নানা প্রতিকূলতার মাঝে প্রচণ্ড মানসিক শক্তি নিয়ে মানুষকে আপন করে নিয়েছেন, তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বাংলাদেশ পুলিশ হাইতির ভূমিকম্প বিধ্বস্ত অসহায় মানুষের জন্য কাজ করেছেন, তেমনি আফ্রিকা এমনকি ইউরোপের বিভিন্ন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে তৃণমূল পর্যায়ে পুলিশের সেবা প্রদান, পুলিশের প্রতিষ্ঠানিক কাঠামো পুর্নবিন্যাস ও পুনর্গঠন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকা আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে সমাদৃত হয়েছে।

বাংলাদেশ পুলিশের শান্তিরক্ষীরা দুর্গম ভৌগলিক পরিবেশ ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও প্রচন্ড মানসিক শক্তি নিয়ে মানবিকতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বশান্তি রক্ষায় নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে চলেছে।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ পুলিশের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা ও অনন্য অবদান রয়েছে, যা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা বাড়িয়েছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ পুলিশ অঙ্গীকারবদ্ধ।