ঢাকা ০৭:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৪ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

অর্থনীতিতে সমস্যা আছে, রাতারাতি এর পরিবর্তন হবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৩:১১:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • / ৪৪১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ডলার নিয়ে কয়েক বছর ধরেই চলছে আলোচনা। এই রেট কমিয়ে আনার তাগিদ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদেরা। এর মধ্যেই মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী বললেন, ডলারের রেট কমিয়ে আনার ব্যাপারে কাজ চলছে। তিনি আর্থিক সমস্যা মোকাবিলা করে বাংলাদেশ আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। অর্থনীতিতে সমস্যা আছে, চাইলে রাতারাতি এর পরিবর্তন হবে না। তবে তা থেকে উত্তরণের চেষ্টা চলছে বলে জানান।

সচিবালয়ে আন্তর্জাতিক ইসলামিক ট্রেড ফাইনান্স করপোরেশন আইটিএফসি–এর সিইও হানি সালেম সনবলের সঙ্গে মঙ্গলবার সাক্ষাৎ শেষে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ বড় অর্থনীতির দেশ উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আর্থিক সমস্যা আছে। সেগুলো মোকাবিলা করেই এগিয়ে যেতে কাজ করছে সরকার। আগে যেগুলো সমস্যা ছিল, সেগুলোর মধ্যে বেশকিছু সমস্যার সমাধান হয়েছে।

আইটিএফসি সিইও হানি সালেম সনবল বলেন, জ্বালানি, খাদ্য নিরাপত্তা ও অবকাঠামো খাতে সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বাড়ানো হবে। নতুন নতুন খাতে সহযোগিতা কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী বলেন, জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আরও সহযোগিতা করতে চায় আইটিএফসি। দুই পক্ষ নতুন নতুন সহযোগিতা ক্ষেত্র তৈরী করতে চায়। আইটিএফসি সাহায্যের পরিমাণ আরও বাড়াতে চায়। এক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকে যুক্ত করা হবে।

এদিকে, সামষ্টিক অর্থনীতি ও মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা, প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ রাখাই দেশের অর্থনীতিতে চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। আর মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহ কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। পাশাপাশি উৎপাদন বাড়াতে শিল্প কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

করোনার পর গত দুই বছর ধরেই বিশ্ব মন্দার সঙ্গে দেশের অর্থনীতির গতিও স্লথ হয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে ডলার সংকটের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির হার বেশি। এক বছরের বেশি সময় ধরে মূলস্ফীতি ১০ শংতাশের ওপর থাকছে। আর ডলার সংকট দূর করতে পণ্য আমদানিতে লাগাম টেনে ধরার চেষ্টা করেছে সরকার। বহুমুখী উদ্যোগেও সুফল মিলছে কম।

নিত্যপণ্যের চড়া দামের চাপ থেকে অল্প আয়ের মানুষকে স্বস্তি দিতে সরকারকে আরো কৌশলী উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শ দিলেন অর্থনীতিবিদ আতিউর রহমান।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ কমিয়েছে সরকার। এতে ঋণের প্রবাহ ঠিক রাখা অন্যতম চ্যালেঞ্জ বলেন মনে করেন ডিসিসিআই এর সভাপতি আশরাফ আহমেদ।

এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম, আমদানি কমিয়ে আনতে দেশে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া উচিত।

ডলার সংকট দূর করা ও মূল্যস্ফীতি কমলে দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

অর্থনীতিতে সমস্যা আছে, রাতারাতি এর পরিবর্তন হবে না

আপডেট সময় : ০৩:১১:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

ডলার নিয়ে কয়েক বছর ধরেই চলছে আলোচনা। এই রেট কমিয়ে আনার তাগিদ দিচ্ছেন অর্থনীতিবিদেরা। এর মধ্যেই মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী বললেন, ডলারের রেট কমিয়ে আনার ব্যাপারে কাজ চলছে। তিনি আর্থিক সমস্যা মোকাবিলা করে বাংলাদেশ আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। অর্থনীতিতে সমস্যা আছে, চাইলে রাতারাতি এর পরিবর্তন হবে না। তবে তা থেকে উত্তরণের চেষ্টা চলছে বলে জানান।

সচিবালয়ে আন্তর্জাতিক ইসলামিক ট্রেড ফাইনান্স করপোরেশন আইটিএফসি–এর সিইও হানি সালেম সনবলের সঙ্গে মঙ্গলবার সাক্ষাৎ শেষে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ বড় অর্থনীতির দেশ উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আর্থিক সমস্যা আছে। সেগুলো মোকাবিলা করেই এগিয়ে যেতে কাজ করছে সরকার। আগে যেগুলো সমস্যা ছিল, সেগুলোর মধ্যে বেশকিছু সমস্যার সমাধান হয়েছে।

আইটিএফসি সিইও হানি সালেম সনবল বলেন, জ্বালানি, খাদ্য নিরাপত্তা ও অবকাঠামো খাতে সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বাড়ানো হবে। নতুন নতুন খাতে সহযোগিতা কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী বলেন, জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আরও সহযোগিতা করতে চায় আইটিএফসি। দুই পক্ষ নতুন নতুন সহযোগিতা ক্ষেত্র তৈরী করতে চায়। আইটিএফসি সাহায্যের পরিমাণ আরও বাড়াতে চায়। এক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকে যুক্ত করা হবে।

এদিকে, সামষ্টিক অর্থনীতি ও মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা, প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ রাখাই দেশের অর্থনীতিতে চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। আর মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহ কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। পাশাপাশি উৎপাদন বাড়াতে শিল্প কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

করোনার পর গত দুই বছর ধরেই বিশ্ব মন্দার সঙ্গে দেশের অর্থনীতির গতিও স্লথ হয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে ডলার সংকটের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির হার বেশি। এক বছরের বেশি সময় ধরে মূলস্ফীতি ১০ শংতাশের ওপর থাকছে। আর ডলার সংকট দূর করতে পণ্য আমদানিতে লাগাম টেনে ধরার চেষ্টা করেছে সরকার। বহুমুখী উদ্যোগেও সুফল মিলছে কম।

নিত্যপণ্যের চড়া দামের চাপ থেকে অল্প আয়ের মানুষকে স্বস্তি দিতে সরকারকে আরো কৌশলী উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শ দিলেন অর্থনীতিবিদ আতিউর রহমান।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ কমিয়েছে সরকার। এতে ঋণের প্রবাহ ঠিক রাখা অন্যতম চ্যালেঞ্জ বলেন মনে করেন ডিসিসিআই এর সভাপতি আশরাফ আহমেদ।

এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম, আমদানি কমিয়ে আনতে দেশে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া উচিত।

ডলার সংকট দূর করা ও মূল্যস্ফীতি কমলে দেশের অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা।