ঢাকা ০৪:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

অবৈধ হাসপাতাল-ক্লিনিক বন্ধ না হলে ব্যবস্থা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

কক্সবাজার প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:৩০:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • / ৪৬৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অনুমোদনহীন অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো মালিকপক্ষ বন্ধ না করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। আজ শুক্রবার বিকেলে কক্সবাজারের সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঝটিকা অভিযানকালে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম প্রধান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সব তথ্য জানানো হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে হঠাৎ করেই অনির্ধারিত একটি অভিযানে কক্সবাজারের বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ইউনিয়ন হাসপাতাল লিমিটেড এবং কক্সবাজার আড়াইশ বেডের সরকারি সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় কক্সবাজারের আড়াইশ বেডের সদর হাসপাতাল সংলগ্ন বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ইউনিয়ন হাসপাতাল লিমিটেডে পরিদর্শনে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সেখানকার বেশ কিছু অনিয়ম দেখতে পান। হাসপাতালটিতে আইসিইউ, সিটি স্ক্যান চিকিৎসা ব্যবস্থার অনুমোদন না থাকলেও সেখানে আইসিইউ ও সিটি স্ক্যান ব্যবস্থার মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে দেখতে পান তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স অনুপস্থিত দেখতে পেয়ে হাসপাতালের ম্যানেজারের কক্ষে গেলে সেখানে কর্তব্যরত ম্যানেজার ধূমপানরত অবস্থায় দেখতে পান।

হাসপাতালের অন্যান্য সুযোগ–সুবিধা ভালো না থাকার পরও সেখানে অনেক রোগীর ভর্তি দেখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিস্ময় প্রকাশ করেন বলেন, ‘একটি বেসরকারি বি ক্যাটেগরির হাসপাতালে ডাক্তার নেই, নার্স নেই, ম্যানেজার নিজেই ধূমপান করেন অথচ সেই হাসপাতালে রোগী এত ভর্তি হলো কী করে সেটি খতিয়ে দেখতে হবে। অবৈধভাবে এখানে আইসিইউতে রোগী ভর্তি রাখা হচ্ছে অথচ আইসিইউ অনুমোদন নেই, আইসিইউ চালানোর দক্ষ লোকবল নেই।’

‘এসব অনিয়ম দেশের সর্বত্রই এতদিন করা হলেও এখন থেকে আর কেউ পার পাবে না। এসব অবৈধ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মালিকদের নিজ নিজ অবৈধ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখতে আমি প্রথমে বুঝিয়ে বলেছি। কেউ শুনেছে কথা, কেউ শোনেনি। আমি আবারও তাদেরকে অনুমোদনহীন অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো বন্ধ করে দিতে অনুরোধ করছি। যারা বন্ধ করছে না, আমি এখন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত উপযুক্ত ব্যবস্থা নেব।’— বলেন ডা. সামন্ত লাল সেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ সময় অনিয়মের কারণে ইউনিয়ন হাসপাতাল লিমিটেডের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

তিন দিনব্যাপী কক্সবাজার জেলা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী গত বুধবার থেকে কক্সবাজারে অবস্থান করছেন। কক্সবাজার জেলার সরকারি-বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রসমূহ পরিদর্শনের তারিখ আগামীকাল ১৭ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত থাকলেও স্বাস্থ্যমন্ত্রী আজ বিকেলে হঠাৎ করে আকস্মিকভাবে স্থানীয় সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল অভিযানে যান।

এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবিএম খুরশীদ আলম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) মইনুল হোসেন এবং চট্রগ্রাম সিভিল সার্জন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

অবৈধ হাসপাতাল-ক্লিনিক বন্ধ না হলে ব্যবস্থা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১১:৩০:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

অনুমোদনহীন অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো মালিকপক্ষ বন্ধ না করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। আজ শুক্রবার বিকেলে কক্সবাজারের সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঝটিকা অভিযানকালে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম প্রধান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সব তথ্য জানানো হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে হঠাৎ করেই অনির্ধারিত একটি অভিযানে কক্সবাজারের বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ইউনিয়ন হাসপাতাল লিমিটেড এবং কক্সবাজার আড়াইশ বেডের সরকারি সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় কক্সবাজারের আড়াইশ বেডের সদর হাসপাতাল সংলগ্ন বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ইউনিয়ন হাসপাতাল লিমিটেডে পরিদর্শনে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সেখানকার বেশ কিছু অনিয়ম দেখতে পান। হাসপাতালটিতে আইসিইউ, সিটি স্ক্যান চিকিৎসা ব্যবস্থার অনুমোদন না থাকলেও সেখানে আইসিইউ ও সিটি স্ক্যান ব্যবস্থার মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে দেখতে পান তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স অনুপস্থিত দেখতে পেয়ে হাসপাতালের ম্যানেজারের কক্ষে গেলে সেখানে কর্তব্যরত ম্যানেজার ধূমপানরত অবস্থায় দেখতে পান।

হাসপাতালের অন্যান্য সুযোগ–সুবিধা ভালো না থাকার পরও সেখানে অনেক রোগীর ভর্তি দেখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিস্ময় প্রকাশ করেন বলেন, ‘একটি বেসরকারি বি ক্যাটেগরির হাসপাতালে ডাক্তার নেই, নার্স নেই, ম্যানেজার নিজেই ধূমপান করেন অথচ সেই হাসপাতালে রোগী এত ভর্তি হলো কী করে সেটি খতিয়ে দেখতে হবে। অবৈধভাবে এখানে আইসিইউতে রোগী ভর্তি রাখা হচ্ছে অথচ আইসিইউ অনুমোদন নেই, আইসিইউ চালানোর দক্ষ লোকবল নেই।’

‘এসব অনিয়ম দেশের সর্বত্রই এতদিন করা হলেও এখন থেকে আর কেউ পার পাবে না। এসব অবৈধ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মালিকদের নিজ নিজ অবৈধ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখতে আমি প্রথমে বুঝিয়ে বলেছি। কেউ শুনেছে কথা, কেউ শোনেনি। আমি আবারও তাদেরকে অনুমোদনহীন অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো বন্ধ করে দিতে অনুরোধ করছি। যারা বন্ধ করছে না, আমি এখন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত উপযুক্ত ব্যবস্থা নেব।’— বলেন ডা. সামন্ত লাল সেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ সময় অনিয়মের কারণে ইউনিয়ন হাসপাতাল লিমিটেডের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

তিন দিনব্যাপী কক্সবাজার জেলা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী গত বুধবার থেকে কক্সবাজারে অবস্থান করছেন। কক্সবাজার জেলার সরকারি-বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রসমূহ পরিদর্শনের তারিখ আগামীকাল ১৭ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত থাকলেও স্বাস্থ্যমন্ত্রী আজ বিকেলে হঠাৎ করে আকস্মিকভাবে স্থানীয় সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল অভিযানে যান।

এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবিএম খুরশীদ আলম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) মইনুল হোসেন এবং চট্রগ্রাম সিভিল সার্জন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।