ঢাকা ০৫:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১১ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বাংলা বাংলা English English हिन्दी हिन्दी

অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে ইরাকে নতুন প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২৫:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অক্টোবর ২০২২
  • / ৪৫৯ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ছবি

বাংলা খবর বিডি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে নতুন প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করেছে ইরাক। গতকাল বৃহস্পতিবার ইরাকের পার্লামেন্ট কুর্দি রাজনীতিবিদ আবদুল লতিফ রশিদকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করে। নির্বাচিত হয়েই তাৎক্ষণিকভাবে মোহাম্মদ শিয়া আল সুদানিকে প্রধানমন্ত্রী মনোনীত করেন তিনি।

এতে করে গত বছরের অক্টোবরে জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে ইরাকে এক বছর ধরে চলে আসা অচলাবস্থার অবসান ঘটল। আজ শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাকে প্রেসিডেন্টের পদটি ঐতিহ্যগতভাবে একজন কুর্দি রাজনীতিকের দখলেই থাকে এবং এটি বহুলাংশে একটি আনুষ্ঠানিক পদ। কিন্তু রশিদকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচন করা নতুন সরকার গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। যে কাজটি রাজনীতিবিদরা গত বছর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর থেকে করতে কার্যত ব্যর্থ হয়েছেন।

রয়টার্স বলছে, ৭৮ বছর বয়সী আবদুল লতিফ রশিদ ২০০৩ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ইরাকের পানিসম্পদ মন্ত্রী ছিলেন। ব্রিটেনে পড়াশোনা করা এই প্রকৌশলী রাজনীতিক সাবেক প্রেসিডেন্ট বারহাম সালিহের বিরুদ্ধে জয়লাভ করেন।

৭৮ বছর বয়সী রশিদ এখন আরেক কুর্দি রাজনীতিবীদ ও প্রেসিডেন্ট বারহাম সালেহের স্থলাভিষিক্ত হবেন। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দুই দফা ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে আবদুল রশিদ পেয়েছেন ১৬০ ভোট। অন্যদিকে বারহাম সালেহ পেয়েছেন ৯৯ ভোট।

রাশিদ পার্লামেন্টের সবচেয়ে বড় জোট কোঅর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্কের মনোনীত প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী সুদানিকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান। কোঅর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক ইরানের মিত্র দলগুলোর একটি জোট।

ইরাকের প্রেসিডেন্ট মূলত একটি আনুষ্ঠানিক পদ। ঐতিহ্যগতভাবে একজন কুর্দি এ পদ পেয়ে থাকেন। কিন্তু একটি নতুন সরকার গঠনের পথে এ ভোট খুব গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, নির্বাচনের পর থেকে দেশটির রাজনীতিকরা এটিই করতে ব্যর্থ হচ্ছিলেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পরই ইরানপন্থি জোটবদ্ধ দলগুলোর জোট সমন্বয় কাঠামো বলে পরিচিত ইরাকের বৃহত্তম সংসদীয় ব্লকের মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানিকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান রশিদ। ৫২ বছর বয়সী সুদানি এর আগে ইরাকের মানবাধিকার বিষয়ক মন্ত্রীর পাশাপাশি শ্রম ও সামাজিক বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

বৃহস্পতিবারের ভোট ছিল চলতি বছর ইরাকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চতুর্থ দফার প্রচেষ্টা। সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরাকের রাজধানী বাগদাদের গ্রীন জোনের আশপাশে বৃহস্পতিবার নয়টি রকেট আঘাত হানে এবং এই পরিস্থিতিতেই পার্লামেন্টে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

নিরাপত্তা ও চিকিৎসা সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবারের এই হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। গত মাসে একই ধরনের হামলা হয়েছিল। সেসময় পার্লামেন্ট সদস্যরা স্পিকারকে বেছে নিতে ভোট দিচ্ছিলেন।

গত বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত ইরাকের সর্বশেষ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোট পায় মোকতাদা আল-সদরের দল। কিন্তু তার দল সরকার গঠনে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। এরপর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে মার্চ মাসের শেষ পর্যন্ত ইরাকে তিনবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সেসব প্রচেষ্টা সফল হয়নি। রাজনৈতিক এই অচলাবস্থার মধ্যেই গত আগস্টে পার্লামেন্ট থেকে দলের সকল সদস্যকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দেন সদর। এরপর কয়েক দফায় ইরাকের পার্লামেন্টে হামলার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় সদরের সমর্থকরা জড়িত বলে অভিযোগ ওঠে।

এরপর আগস্টের শেষ দিকে রাজনীতি থেকে চিরতরে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দেন মোকতাদা আল-সদর। এমনকি নিজের সকল রাজনৈতিক কার্যালয় ও সেগুলোর কার্যক্রমও বন্ধের ঘোষণা দেন তিনি। তার দাবি, তিনি কখনোই নেতৃত্ব এবং ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের দাবিদার ছিলেন না। তাই চিরদিনের জন্য রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন তিনি।

অবশ্য নয় বছর আগেও একবার রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন সদর। পরে আবারও তিনি রাজনীতিতে ফিরে আসেন। তবে রাজনীতি ছাড়ার সর্বশেষ ঘোষণার পর রাজধানী বাগদাদজুড়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটে ইরাকের শিয়া মিলিশিয়াদের ওপর বিশেষজ্ঞ হামদি মালিক বলছেন, ‘এখন ইরান-সমর্থিত দলগুলো পার্লামেন্টে আধিপত্য বিস্তার করছে, তাদের একটি বন্ধুত্বপূর্ণ বিচারব্যবস্থা রয়েছে এবং তারা নির্বাহী বিভাগেও আধিপত্য বিস্তার করেছে… তাদের এটি থেকে উপকৃত হতে হবে।’

রয়টার্স বলছে, সাম্প্রদায়িক সংঘাত এড়ানোর জন্য ক্ষমতা ভাগাভাগি ব্যবস্থার অধীনে ইরাকের ক্ষমতা কাঠামো প্রতিষ্ঠিত। এই কাঠামোর অধীনে ইরাকের প্রেসিডেন্ট হন একজন কুর্দি, তার প্রধানমন্ত্রী হন একজন শিয়া এবং সংসদের স্পিকার হন সুন্নি।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে ইরাকে নতুন প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৩:২৫:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অক্টোবর ২০২২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে নতুন প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করেছে ইরাক। গতকাল বৃহস্পতিবার ইরাকের পার্লামেন্ট কুর্দি রাজনীতিবিদ আবদুল লতিফ রশিদকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করে। নির্বাচিত হয়েই তাৎক্ষণিকভাবে মোহাম্মদ শিয়া আল সুদানিকে প্রধানমন্ত্রী মনোনীত করেন তিনি।

এতে করে গত বছরের অক্টোবরে জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে ইরাকে এক বছর ধরে চলে আসা অচলাবস্থার অবসান ঘটল। আজ শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাকে প্রেসিডেন্টের পদটি ঐতিহ্যগতভাবে একজন কুর্দি রাজনীতিকের দখলেই থাকে এবং এটি বহুলাংশে একটি আনুষ্ঠানিক পদ। কিন্তু রশিদকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচন করা নতুন সরকার গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। যে কাজটি রাজনীতিবিদরা গত বছর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর থেকে করতে কার্যত ব্যর্থ হয়েছেন।

রয়টার্স বলছে, ৭৮ বছর বয়সী আবদুল লতিফ রশিদ ২০০৩ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ইরাকের পানিসম্পদ মন্ত্রী ছিলেন। ব্রিটেনে পড়াশোনা করা এই প্রকৌশলী রাজনীতিক সাবেক প্রেসিডেন্ট বারহাম সালিহের বিরুদ্ধে জয়লাভ করেন।

৭৮ বছর বয়সী রশিদ এখন আরেক কুর্দি রাজনীতিবীদ ও প্রেসিডেন্ট বারহাম সালেহের স্থলাভিষিক্ত হবেন। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দুই দফা ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে আবদুল রশিদ পেয়েছেন ১৬০ ভোট। অন্যদিকে বারহাম সালেহ পেয়েছেন ৯৯ ভোট।

রাশিদ পার্লামেন্টের সবচেয়ে বড় জোট কোঅর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্কের মনোনীত প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী সুদানিকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান। কোঅর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক ইরানের মিত্র দলগুলোর একটি জোট।

ইরাকের প্রেসিডেন্ট মূলত একটি আনুষ্ঠানিক পদ। ঐতিহ্যগতভাবে একজন কুর্দি এ পদ পেয়ে থাকেন। কিন্তু একটি নতুন সরকার গঠনের পথে এ ভোট খুব গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, নির্বাচনের পর থেকে দেশটির রাজনীতিকরা এটিই করতে ব্যর্থ হচ্ছিলেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পরই ইরানপন্থি জোটবদ্ধ দলগুলোর জোট সমন্বয় কাঠামো বলে পরিচিত ইরাকের বৃহত্তম সংসদীয় ব্লকের মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানিকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান রশিদ। ৫২ বছর বয়সী সুদানি এর আগে ইরাকের মানবাধিকার বিষয়ক মন্ত্রীর পাশাপাশি শ্রম ও সামাজিক বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

বৃহস্পতিবারের ভোট ছিল চলতি বছর ইরাকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চতুর্থ দফার প্রচেষ্টা। সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরাকের রাজধানী বাগদাদের গ্রীন জোনের আশপাশে বৃহস্পতিবার নয়টি রকেট আঘাত হানে এবং এই পরিস্থিতিতেই পার্লামেন্টে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

নিরাপত্তা ও চিকিৎসা সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবারের এই হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। গত মাসে একই ধরনের হামলা হয়েছিল। সেসময় পার্লামেন্ট সদস্যরা স্পিকারকে বেছে নিতে ভোট দিচ্ছিলেন।

গত বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত ইরাকের সর্বশেষ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোট পায় মোকতাদা আল-সদরের দল। কিন্তু তার দল সরকার গঠনে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। এরপর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে মার্চ মাসের শেষ পর্যন্ত ইরাকে তিনবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সেসব প্রচেষ্টা সফল হয়নি। রাজনৈতিক এই অচলাবস্থার মধ্যেই গত আগস্টে পার্লামেন্ট থেকে দলের সকল সদস্যকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দেন সদর। এরপর কয়েক দফায় ইরাকের পার্লামেন্টে হামলার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় সদরের সমর্থকরা জড়িত বলে অভিযোগ ওঠে।

এরপর আগস্টের শেষ দিকে রাজনীতি থেকে চিরতরে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দেন মোকতাদা আল-সদর। এমনকি নিজের সকল রাজনৈতিক কার্যালয় ও সেগুলোর কার্যক্রমও বন্ধের ঘোষণা দেন তিনি। তার দাবি, তিনি কখনোই নেতৃত্ব এবং ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের দাবিদার ছিলেন না। তাই চিরদিনের জন্য রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন তিনি।

অবশ্য নয় বছর আগেও একবার রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন সদর। পরে আবারও তিনি রাজনীতিতে ফিরে আসেন। তবে রাজনীতি ছাড়ার সর্বশেষ ঘোষণার পর রাজধানী বাগদাদজুড়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটে ইরাকের শিয়া মিলিশিয়াদের ওপর বিশেষজ্ঞ হামদি মালিক বলছেন, ‘এখন ইরান-সমর্থিত দলগুলো পার্লামেন্টে আধিপত্য বিস্তার করছে, তাদের একটি বন্ধুত্বপূর্ণ বিচারব্যবস্থা রয়েছে এবং তারা নির্বাহী বিভাগেও আধিপত্য বিস্তার করেছে… তাদের এটি থেকে উপকৃত হতে হবে।’

রয়টার্স বলছে, সাম্প্রদায়িক সংঘাত এড়ানোর জন্য ক্ষমতা ভাগাভাগি ব্যবস্থার অধীনে ইরাকের ক্ষমতা কাঠামো প্রতিষ্ঠিত। এই কাঠামোর অধীনে ইরাকের প্রেসিডেন্ট হন একজন কুর্দি, তার প্রধানমন্ত্রী হন একজন শিয়া এবং সংসদের স্পিকার হন সুন্নি।